‘যাঁরা বই পড়েন না, তাঁরাই চর্চাকে ভয় পান!’ পুজোর স্টল বিতর্কে বিরোধীদের কড়া তোপ সেলিমের

‘যাঁরা বই পড়েন না, তাঁরাই চর্চাকে ভয় পান!’ পুজোর স্টল বিতর্কে বিরোধীদের কড়া তোপ সেলিমের

কলকাতা: দুর্গাপুজোর আবহে বামেদের ঐতিহ্যবাহী বইয়ের স্টল ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ছড়িয়েছে তীব্র উত্তাপ। কার্ল মার্কস কিংবা ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসের তত্ত্বের গণ্ডি ছাড়িয়ে এবার বাংলা ও ভারতের মহান মনীষীদের সৃষ্টি এবং বিশ্বসাহিত্যের সেরা অনুবাদের পশরা সাজাচ্ছে সিপিএম। কিন্তু বিরোধীরা এটিকে ‘বিদেশি সংস্কৃতির প্রচার’ বলে তোপ দাগতেই রাজনৈতিক বাদানুবাদ তুঙ্গে উঠেছে।

সাহিত্য ও দর্শনের নতুন সম্ভার ন্যাশনাল বুক এজেন্সি (NBA)-র তথ্য অনুযায়ী, এবারের শারদোৎসবে প্রায় ২০ থেকে ২২টি নতুন বই ও সংকলন পাঠকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। স্টলগুলির প্রধান আকর্ষণ:

  • ভারতীয় সাহিত্য: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গোরা’-র নতুন সংস্করণ এবং শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে তাঁর ছোটগল্প ও কিশোর সাহিত্যের বিশেষ সংকলন।
  • বিশ্বসাহিত্যের অনবদ্য অনুবাদ: ‘কাউন্ট অব মন্টেক্রিস্টো’, ‘আঙ্কল টমস কেবিন’ এবং ‘অলিভার টুইস্ট’-এর মতো আন্তর্জাতিক কালজয়ী বই।
  • মননশীল ও দার্শনিক বই: ‘মার্কসবাদীদের দৃষ্টিতে স্বামী বিবেকানন্দ’, দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের ‘ভারতীয় ষড়দর্শন’ এবং ইএমএস নাম্বুদিরিপাদ সম্পাদিত ‘আদি শঙ্করাচার্য ও অন্যান্য’।

রাজনৈতিক অভিযোগ ও কড়া জবাব বামেদের বুকস্টলে দেশীয় মনীষীদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে— বিরোধীদের এই অভিযোগ একঝটকায় উড়িয়ে দিয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। কড়া ভাষায় কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “যাঁরা জীবনে বই উল্টেও দেখেন না, কেবল তাঁরাই এমন অজ্ঞতার পরিচয় দিতে পারেন।” কোন দল বা প্রকাশনা কী বই বিক্রি করবে, তা স্থির করে দেওয়ার অধিকার কারও নেই বলেও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। অন্যদিকে, সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর মতে, মানুষের মুক্তচিন্তা ও বই পড়ার এই সংস্কৃতিকে ভয় পায় বলেই বিরোধীরা এমন ভিত্তিহীন বিতর্ক তৈরি করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *