দিশা সালিয়ান রহস্যমৃত্যু: সিবিআই FIR-এ আদিত্য ঠাকরে ও রিয়া চক্রবর্তী!

প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রাক্তন ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের রহস্যমৃত্যু মামলায় নতুন করে আলোড়ন তৈরি হলো। বম্বে হাইকোর্টের নির্দেশের পর আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তভার হাতে নিয়ে এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)। আর এই এফআইআরে নাম জড়াল শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা আদিত্য ঠাকরে, অভিনেতা ডিনো মোরিয়া, সুরজ পাঞ্চোলি এবং রিয়া চক্রবর্তীর মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের।
খুন ও গণধর্ষণের মারাত্মক অভিযোগ কেবল সাধারণ বা অস্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং সিবিআই সম্পূর্ণ মামলাটিকে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এফআইআরে যে সমস্ত ধারা যুক্ত করা হয়েছে:
- খুন ও গণধর্ষণ
- অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র
- তথ্যপ্রমাণ লোপাট ও ভুল তথ্য পেশ
তৎকালীন উদ্ধব সরকারের ভূমিকা ও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা তদন্তকারী সংস্থার চাঞ্চল্যকর দাবি, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে এবং তাঁর ছেলে আদিত্য ঠাকরে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করেছিলেন। সরকারি নথি জালিয়াতি করা, কেস পেপার গায়েব করা এবং অপরাধীদের আড়াল করতে মুম্বই পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ময়নাতদন্তে দেরি করার জন্য যুক্ত চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মীদের ভূমিকাও সিবিআই-এর স্ক্যানারে রয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও হাইকোর্টের কড়া পদক্ষেপ ২০২০ সালের ৮ জুন মুম্বইয়ের মালাডের একটি বহুতলের ১৪ তলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় দিশার। এর মাত্র কয়েক দিন পর (১৪ জুন) উদ্ধার হয় সুশান্ত সিং রাজপুতের ঝুলন্ত দেহ। মুম্বই পুলিশ দীর্ঘদিন বিষয়টিকে ‘দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু’ বলে ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিল।
সম্প্রতি দিশার বাবা সতীশ সালিয়ান হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়েকে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। পুলিশের দীর্ঘদিনের গাফিলতি এবং পরিবারকে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না দেওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বম্বে হাইকোর্ট। আদালত মুম্বই পুলিশকে চরম তিরস্কার করে সম্পূর্ণ মামলার তদন্ত সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সিবিআই-এর এই কড়া আইনি পদক্ষেপে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে রাজনৈতিক বিস্ফোরণ ঘটেছে।