সাজানো ডাকাতি ও বিশ্বস্ত কর্মচারীর চরম বিশ্বাসভঙ্গ! মোরাদাবাদে ১৮ লক্ষ টাকার ছিনতাই কাণ্ডে কড়া পদক্ষেপ পুলিশের

মোরাদাবাদ: উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে ঘটে যাওয়া ১৮ লক্ষ টাকার হাই-প্রোফাইল ছিনতাই কাণ্ডের চাঞ্চল্যকর পর্দাফাঁস করল পুলিশ। কোনো পেশাদার অপরাধী চক্র নয়, নামী বুলিয়ন ব্যবসায়ীর এই বিপুল পরিমাণ টাকা ও সোনা লুটের আসল খলনায়ক তাঁরই সবচেয়ে ‘বিশ্বস্ত’ কর্মচারী শঙ্কর।
কী ঘটেছিল সেই রাতে? গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে ভোজপুর থানার দাদুপুর গ্রামের কাছে ঘটনার সূত্রপাত। ব্যবসায়ী তাঁর কর্মচারী শঙ্করকে ৫.৬০ লক্ষ টাকা নগদ এবং ১৩.৪০ লক্ষ টাকা মূল্যের সোনার গয়না দিয়ে পাঠান। কিছুক্ষণের মধ্যেই শঙ্কর খবর দেয়, পথিমধ্যে ৪ জন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী তাকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়েছে। পুলিশকে পুরোপুরি বিভ্রান্ত করতে শঙ্কর নিজে দাঁড়িয়ে থেকে মালিককে দিয়ে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোনও করায়।
সিসিটিভি ও মোবাইল নজরদারিতে ফাঁস মিথ্যার জাল: ঘটনার তদন্তে নেমে গ্রামীণ পুলিশ সুপার কুনওয়ার আকাশ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন বিশেষ তদন্তকারী টিম শঙ্করকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই তার কথায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপরই পুলিশ দুর্ঘটনাস্থলের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ এবং মোবাইল সার্ভেইল্যান্সের সাহায্য নেয়।
কড়া জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ভেঙে পড়ে শঙ্কর স্বীকার করে নেয় যে পুরো ডাকাতিটাই ছিল সাজানো নাটক। মালিকের আস্থা বজায় রেখে গত ৩-৪ মাস ধরে দুই সহযোগী—মনীশ ও হর্ষকে সাথে নিয়ে এই ছক কষেছিল সে। তাদের পরিকল্পনা ছিল, বড় অঙ্কের চালান পেলেই সুযোগ বুঝে টাকা হাতানো হবে।
২৪ ঘণ্টায় ১০০% মালামাল উদ্ধার: পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে ছিনতাই হওয়া সম্পূর্ণ ৫.৬০ লক্ষ টাকা নগদ এবং ১৩.৪০ লক্ষ টাকার সোনার গয়না—অর্থাৎ শতভাগ মালামালই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত তিন অভিযুক্ত শঙ্কর, মনীশ ও হর্ষকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে জেলে পাঠানো হয়েছে।