রাধা অষ্টমী ২০২৬: শুভ মুহূর্ত থেকে পুজোর সঠিক নিয়ম—জেনে নিন রাধারানীকে প্রসন্ন করার সহজ উপায়!

রাধা অষ্টমী ২০২৬: শুভ মুহূর্ত থেকে পুজোর সঠিক নিয়ম—জেনে নিন রাধারানীকে প্রসন্ন করার সহজ উপায়!

শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর ঠিক ১৫ দিন পর বৈষ্ণব সমাজে পালিত হয় পরম পবিত্র ‘রাধা অষ্টমী’। ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের এই বিশেষ তিথিতে ধরাধামে আবির্ভূত হয়েছিলেন ভক্তি ও প্রেমের মূর্ত প্রতীক শ্রীমতী রাধারানী। বৈষ্ণব শাস্ত্র মতে, রাধাজির কৃপা ছাড়া শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা আসাম্পূর্ণ। এই পবিত্র দিনে রাধা-কৃষ্ণের যুগল রূপের আরাধনা করলে সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি ফিরে আসে এবং দাম্পত্য জীবন মধুর হয়ে ওঠে।

শুভ সময় ও তিথি নির্দেশিকা (২০২৬)

  • উৎসবের তারিখ: ১৯ সেপ্টেম্বর, শনিবার (২ আশ্বিন, ১৪ ৩৩ বঙ্গাব্দ)।
  • অষ্টমী তিথি শুরু: ১৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার দুপুর ১টা ১ মিনিটে।
  • অষ্টমী তিথি শেষ: ১৯ সেপ্টেম্বর, শনিবার বিকেল ৩টে ২৭ মিনিটে।
  • মধ্যাহ্ন পুজোর সময়: ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা ১৯ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত (মোট ২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট)।

পৌরাণিক মতে, সূর্য যখন মধ্যগগনে থাকে, ঠিক তখনই রাধারানীর জন্ম হয়েছিল। তাই এই আড়াই ঘণ্টার শুভ মুহূর্তেই প্রতিমা বা ছবিতে পঞ্চামৃত স্নান, নতুন পোশাক পরানো এবং প্রিয় ভোগ নিবেদনের বিধান রয়েছে।

উপবাসের নিয়ম ও অর্পণযোগ্য নৈবেদ্য

ভক্তরা সাধারণত সকাল থেকে মধ্যাহ্ন পুজো শেষ হওয়া পর্যন্ত নির্জলা উপবাস পালন করেন। তবে শারীরিক সামর্থ্য অনুযায়ী ফল, দুধ, দই, সাবুদানার খিচুড়ি ও সৈন্ধব লবণ খেয়েও ব্রত রাখা যায়। পুজোর বিশেষ নৈবেদ্য হিসেবে পঞ্চামৃত, মাখন-মিছরি, গোলাপি বা গেরুয়া বস্ত্র এবং পদ্ম কিংবা গোলাপ ফুল নিবেদন করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।

অলৌকিক জন্মকথা ও কৃষ্ণ-দর্শনের রহস্য

বরসানার নিঃসন্তান রাজা বৃষভানু যমুনা নদীতে যজ্ঞ করার সময় এক জ্যোতির্ময় পদ্মফুলের ওপর শুয়ে থাকা শিশুকন্যা হিসেবে রাধারানীকে পান। তবে রাজপ্রাসাদে আনার পর দেখা যায় শিশুটি চোখ মেলছে না। পরবর্তীতে দেবর্ষি নারদের পরামর্শে শিশু কৃষ্ণের উপস্থিতি মাত্রই প্রথমবারের মতো নয়ন মেলে তাকান রাধারানী। মনে করা হয়, কৃষ্ণের প্রেমলীলা পূর্ণ করতেই দেবী লক্ষ্মী রাধা রূপে পদ্মফুলের ওপর আবির্ভূত হয়েছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *