জলপাইগুড়িতে শিক্ষক প্রহার: ‘এক অপরাধে দুই শাস্তি নয়’, শর্তসাপেক্ষে জামিন ৪ ছাত্রের

জলপাইগুড়িতে শিক্ষক প্রহার: ‘এক অপরাধে দুই শাস্তি নয়’, শর্তসাপেক্ষে জামিন ৪ ছাত্রের

জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষককে রাস্তায় ফেলে মারধরের ঘটনায় অবশেষে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তী জামিন পেল অভিযুক্ত চার ছাত্র। গত শনিবার কোতোয়ালি থানা তাদের আটক করার পর জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ড দু’দিনের হোম কাস্টডির নির্দেশ দিয়েছিল। সোমবার সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাদের পুনরায় বোর্ডে পেশ করা হলে এই জামিন মঞ্জুর করা হয়।

জামিনের প্রধান শর্তাবলি: সরকারি আইনজীবী শান্তা চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বিচারক দেবারতি রায় জামিন মঞ্জুর করলেও অভিযুক্তদের জন্য কড়া কাউন্সেলিংয়ের নির্দেশ দিয়েছেন।

  • আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ওই চার ছাত্রকে প্রথম পরপর সাতদিন জেলা জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে কাউন্সেলিংয়ের জন্য আসতে হবে।
  • এরপর আগামী দু’মাস ধরে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন করে তাদের নিয়মিত কাউন্সেলিংয়ে হাজিরা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

কী যুক্তিতে মিলল জামিন? এই জামিন পাওয়ার পেছনে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের একটি জোরালো আইনি যুক্তি কাজ করেছে। তাঁরা আদালতে সওয়াল করেন যে, একই অপরাধের জন্য কাউকে দু’বার শাস্তি দেওয়া যায় না।

প্রধান শিক্ষকেরায়ে হাত তোলার অপরাধে শিক্ষামন্ত্রীর কড়া নির্দেশে ইতিমধ্যেই ওই চার ছাত্রকে স্কুল থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দিয়ে বহিষ্কার করা হয়েছে। অর্থাৎ, ওই স্কুলে তাদের পঠনপাঠনের রাস্তা বন্ধ। এর পাশাপাশি পুলিশ তাদের আটক করে হোমের হেফাজতে পাঠায়। আইনজীবীরা প্রশ্ন তোলেন, এক অপরাধে এই দ্বিমুখী শাস্তি কীভাবে সম্ভব? এই আইনি যুক্তি ও মানবিক দিক বিবেচনা করেই বোর্ড তাদের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, গত ৮ আগস্ট প্রায় ১৫০ বছরের প্রাচীন জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ধর্মচাঁদ বারুইকে একদল ছাত্র রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করে। সেই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও শোরগোল তৈরি হয়। প্রধান শিক্ষকের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ওই চার ছাত্রকে শনাক্ত ও আটক করেছিল। বর্তমানে স্কুল পরিদর্শককে (মাধ্যমিক) দিয়ে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করিয়ে রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *