‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতিতে বড় সাফল্য, প্রতিরক্ষা থেকে মহাকাশে ভারত-ভিয়েতনাম ঐতিহাসিক চুক্তি

‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতিতে বড় সাফল্য, প্রতিরক্ষা থেকে মহাকাশে ভারত-ভিয়েতনাম ঐতিহাসিক চুক্তি

নয়াদিল্লি: ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে চিনের আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টাকে টেক্কা দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করল ভারত। দিল্লিতে আয়োজিত ১৯তম ভারত-ভিয়েতনাম যৌথ কমিশনের (JCM) বৈঠকে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, পারমাণবিক শক্তি এবং মহাকাশ প্রযুক্তির মতো কৌশলগত ক্ষেত্রগুলিতে যৌথভাবে কাজ করার বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং ভিয়েতনামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লে হোয়াই ট্রুং এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের যৌথ নেতৃত্ব দেন। বৈঠক শেষে ড. জয়শঙ্কর জানান, ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট Policy’ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ক ‘মহাসাগর’ (MAHASAGAR) উদ্যোগ বাস্তবায়নে ভিয়েতনাম অন্যতম প্রধান ও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার।

চুক্তির মূল বিষয়বস্তু:

  • প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা: সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ চীন সাগর সংলগ্ন অঞ্চলে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা।
  • উচ্চ প্রযুক্তি ও গবেষণা: পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার এবং মহাকাশ বিজ্ঞানে যৌথ গবেষণা।
  • বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খল: ওষুধ শিল্প, কৃষি, সামুদ্রিক পণ্য এবং সরাসরি আকাশ ও সমুদ্র যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ।
  • ভারত-ভিয়েতনাম মৈত্রী বর্ষ: কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০২৭ সালকে ‘মৈত্রী বর্ষ’ হিসেবে উদযাপন করা হবে।

আসিয়ান (ASEAN) সদস্য দেশগুলির মধ্যে ভিয়েতনামই প্রথম রাষ্ট্র, যার সাথে ভারত ‘ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ গড়ে তুলেছে। সম্প্রতি ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট তো লামের ভারত সফর এবং দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে ভিয়েতনামের সক্রিয় উপস্থিতি দুই দেশের সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-ভিয়েতনামের এই সুদৃঢ় বন্ধন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আনতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা নেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *