মহাকাশে যুদ্ধের বাদ্য: কক্ষপথে অস্ত্র বসানোর কথা প্রথমবার স্বীকার করল আমেরিকা

সংঘাতের নতুন ময়দান এবার মহাশূন্য। মহাকাশের কক্ষপথে সামরিক অস্ত্র মোতায়েনের কথা এই প্রথম প্রকাশ্যে স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র। মূলত চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক আধিপত্যকে টেক্কা দিতে এবং নিজস্ব সুরক্ষা জোরদার করতেই ওয়াশিংটনের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
মার্কিন বিমান বাহিনীর শীর্ষ আধিকারিকদের মতে, সম্ভাব্য শত্রু আক্রমণ থেকে নিজেদের সামরিক বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে ‘অরবিটাল-বেসড স্পেস কন্ট্রোল’ অস্ত্র অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল।
- চীন ও রাশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতা: বেইজিং ও মস্কো দ্রুত গতিতে স্যাটেলাইট-বিরোধী প্রযুক্তি ও মহাকাশ সামরিক শক্তি বাড়িয়ে চলেছে।
- সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা: আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে জিপিএস, যোগাযোগ ব্যবস্থা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং লক্ষ্য নির্ধারণের পুরো প্রক্রিয়াটিই উপগ্রহের ওপর নির্ভরশীল।
- অর্থনৈতিক ঝুঁকি: মার্কিন স্যাটেলাইট ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা কেবল সামরিক বাহিনী নয়, বরং সমগ্র বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ধস নামাতে পারে।
কক্ষপথে কী ধরনের অস্ত্র থাকতে পারে?
অস্ত্রের সঠিক সংখ্যা, ধরন বা মোতায়েনের তারিখ প্রকাশ করেনি হোয়াইট হাউস। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মার্কিন স্পেস ফোর্সের অধীনে থাকা এই প্রযুক্তিতে যুক্ত থাকতে পারে:
- সাইবার সিস্টেম: প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইট সংকেত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অকেজো করার প্রযুক্তি।
- হাই-পাওয়ার লেজার: শত্রু দেশের উপগ্রহকে দূরে বসেই নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করার সক্ষমতা।
- কিলার স্যাটেলাইট: প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইট আক্রমণ করতে সক্ষম বিশেষ ধরনের মহাকাশযান।
বিশ্ব রাজনীতি ও পরিবেশগত ঝুঁকি
২০১৯ সালে মার্কিন ‘স্পেস ফোর্স’ গঠনের পর থেকেই মহাকাশের নিরাপত্তা নিয়ে নানা সমীকরণ তৈরি হচ্ছিল। তবে সরাসরি কক্ষপথে অস্ত্র বসানোর এই স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সংঘাতের ফলে মহাকাশে কোনো উপগ্রহ ধ্বংস হলে তা থেকে বিপুল পরিমাণ ‘স্পেস ডেব্রিস’ বা মহাকাশ বর্জ্য ছড়িয়ে পড়বে। এই দ্রুতগামী বর্জ্য ভবিষ্যতে সব দেশের উপগ্রহ এবং সার্বিক মহাকাশ অভিযানের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।