খাবারে পোকা! ইন্দপুর হাসপাতালে বিধায়কের হানায় ফাঁস চরম বিশৃঙ্খলা

বাঁকুড়ার ইন্দপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আচমকা হানা দিয়ে চরম অব্যবস্থা ও অনিয়মের ছবি হাতেনাতে ধরলেন ছাতনার বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিকেলে বিডিও-কে সঙ্গে নিয়ে ওই হাসপাতালে পরিদর্শনে যান তিনি। সেখানেই রোগীদের খাবারে পোকা ধরা মশলা ব্যবহার থেকে শুরু করে মেয়াদউত্তীর্ণ ওষুধ সরবরাহের মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে।
ইন্দপুর ব্লক ছাড়াও পার্শ্ববর্তী তালডাংরা, ছাতনা, বাঁকুড়া ১ নম্বর ও খাতড়া ব্লকের বিপুল সংখ্যক মানুষ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন ধরেই এই হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ ছিল স্থানীয়দের। পরিদর্শনকালে বিধায়ক রান্নাঘরে ঢুকে দেখেন, রোগীদের খাবারে ব্যবহৃত মশলার কৌটোয় পোকা ঘুরে বেড়াচ্ছে। এরপর ওষুধের স্টোরে গিয়ে দেখা যায়, তাকে সাজানো রয়েছে বিপুল পরিমাণের মেয়াদউত্তীর্ণ ওষুধ।
পরিষেবার হাল দেখে ক্ষুব্ধ বিধায়ক ওয়ার্ডে গিয়ে দেখেন আরও ভয়ঙ্কর দৃশ্য। ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের মশারি ছাড়াই রাখা হয়েছে বেডে। পর্যাপ্ত বেড না থাকায় অনেক দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীকে বাধ্য হয়ে মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালের একদল অস্থায়ী কর্মীর সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন সরকারি তহবিলের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও পান তিনি।
ঘটনার পর বাঁকুড়ার জেলাশাসক ও মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে (CMOH) বিষয়টি জানান সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মেয়াদউত্তীর্ণ ওষুধ ও পচা খাবার খেয়ে কোনো রোগীর মৃত্যু হলে তার দায় রাজ্য সরকারকেই নিতে হবে।” দায়ী ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিককে (BMOH) বরখাস্ত ও কঠোর শাস্তির দাবিতে তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হবেন বলেও জানান।
এ বিষয়ে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বাঁকুড়া স্বাস্থ্য জেলার উপ-মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সজল বিশ্বাস জানান, হাসপাতালে বেড ও সংক্রামক রোগীদের আলাদা রাখার মতো পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে। খাবারে পোকা ও মেয়াদউত্তীর্ণ ওষুধের মতো বাকি অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।