২০২৭-এর আগেই ইউপি-তে আসন-ঝড়! বিজেপির ঘাড়ে চাপ বাড়াচ্ছেন এনডিএ শরিকরা

২০২৭-এর আগেই ইউপি-তে আসন-ঝড়! বিজেপির ঘাড়ে চাপ বাড়াচ্ছেন এনডিএ শরিকরা

উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন আসতে এখনও সময় বাকি থাকলেও, লখনউয়ের রাজনৈতিক পারদ এখনই তুঙ্গে। যোগী রাজ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে এনডিএ (NDA) জোটের অন্দরে শুরু হয়ে গেছে জোর স্নায়ুযুদ্ধ। নিজেদের জাতিগত সমীকরণ ও আঞ্চলিক প্রভাবকে হাতিয়ার করে বিজেপির থেকে বাড়তি আসন ছিনিয়ে নিতে দরকষাকষি শুরু করেছে শরিক দলগুলো।

পশ্চিম থেকে পূর্ব: কার কী চাল?

  • জয়ন্ত চৌধুরী ও আরএলডি: পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে জাট সমাজ ও কৃষক ভোটব্যাঙ্ককে হাতের মুঠোয় রেখে ঘুঁটি সাজাচ্ছেন আরএলডি প্রধান জয়ন্ত চৌধুরী। শোনা যাচ্ছে, দলটির নজর প্রায় ৩৩টি আসনে। এমনকি তাঁর স্ত্রী চারু চৌধুরীও নির্বাচনী ময়দানে নামতে পারেন বলে জোরালো গুঞ্জন।
  • সঞ্জয় নিষাদ ও ওমপ্রকাশ রাজভর: পূর্বাঞ্চলের নিষাদ ও অতি-পিছিয়ে পড়া সমাজকে একজোট করতে সোচ্চার সঞ্জয় নিষাদ এবং ওমপ্রকাশ রাজভর। স্থানীয় বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ানো হোক বা সমাজবাদী পার্টির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ—বিজেপিকে দরকষাকষিতে ব্যাকফুটে ঠেলতে কোনো সুযোগই হাতছাড়া করছেন না তাঁরা।
  • অনুপ্রিয়া প্যাটেল: ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছেন আপনা দল (সোনেলাল)-এর নেত্রী অনুপ্রিয়া প্যাটেল। জোটের ভেতরে থেকেই তিনি সামাজিক ন্যায়বিচার ও ওবিসি সংরক্ষণের মতো ইস্যুতে সরব হয়ে দলীয় অবস্থান মজবুত করছেন।

বিজেপির সামনে কঠিন ভারসাম্য

গত নির্বাচনে শরিকদের আসন বিন্যাস ভিন্ন হলেও, এবার প্রতিটি দলই তাদের অতীত পারফরম্যান্স ও এলাকার রাজনৈতিক গুরুত্ব দেখিয়ে আগের চেয়ে বেশি আসন দাবি করছে।

বিজেপির জন্য এটি এক অত্যন্ত সূক্ষ্ম ভারসাম্যের পরীক্ষা। একদিকে একক শক্তিতে বেশি আসনে লড়াই করে দলীয় কর্তৃত্ব বজায় রাখা, অন্যদিকে আঞ্চলিক জোটসঙ্গীদের হাতছাড়া না করা—দুই দিক সামলানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ ভোটব্যাঙ্ক স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এই ছোট শরিক দলগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে উত্তরপ্রদেশের মহা-সংগ্রামের আগেই এনডিএ-র অন্দরের এই দরকষাকষি ভোটের রাজনীতিকে বেশ উত্তপ্ত করে তুলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *