‘সবটাই পূর্বধারণা’, দিল্লিতে পুলিশি তাণ্ডব মামলায় বিচার বিভাগীয় প্যানেলেই আস্থা শীর্ষ আদালতের

‘সবটাই পূর্বধারণা’, দিল্লিতে পুলিশি তাণ্ডব মামলায় বিচার বিভাগীয় প্যানেলেই আস্থা শীর্ষ আদালতের

দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (CJP) বিক্ষোভ মিছিল ঘিরে পুলিশি তাণ্ডব ও সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্তে গঠিত পাঁচ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি (HPEC) পুনর্গঠন করতে অস্বীকার করেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহানার ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, প্যানেলটির বিরুদ্ধে তোলা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ অনুমানভিত্তিক এবং পূর্বধারণাপ্রসূত।

বিস্তৃত তদন্ত ও কড়া নির্দেশিকা শীর্ষ আদালত প্যানেলটিকে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের সুবিধা না দেখে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্তের প্রধান বিষয়গুলি হলো:

  • আন্দোলনে পেলেট গানের ব্যবহার ও নির্দিষ্ট করে চালানো সহিংসতা।
  • মহিলা আন্দোলনকারীদের হেনস্থার অভিযোগ।
  • উভয় পক্ষের সংঘাত এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের মাত্রা পর্যালোচনা।

সাক্ষীদের নিরাপত্তা ও অনলাইন পোর্টাল তদন্তে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ ও সংবেদনশীল সাক্ষীদের পূর্ণ আইনি সুরক্ষা দেওয়া এবং তাঁদের নাম-পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখার কড়া বার্তা দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। তথ্যপ্রমাণ ও বয়ান জমা দেওয়া সহজ করতে একটি পৃথক অনলাইন পোর্টাল তৈরিরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কাজের সুবিধার্থে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনিকা গুসাইন ও সি সোলোমনকে স্বাধীন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

স্বার্থের সংঘাত বনাম আদালতের আস্থা এর আগে আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ কমিটির এক সদস্যের বিরুদ্ধে ‘স্বার্থের সংঘাত’-এর দাবি তুলে প্যানেল পুনর্গঠনের আর্জি জানান। তবে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করেন। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে যে, প্রাক্তন বিচারপতি আর সুভাষ রেড্ডির নেতৃত্বাধীন অভিজ্ঞ বিচার বিভাগীয় ও প্রশাসনিক প্যানেলের ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং তদন্ত শুরু হওয়ার আগেই স্রেফ অনুমানের ওপর ভর করে এটি পরিবর্তন করা হবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *