‘প্রকৃত কারিগররাই আগের সরকার উৎখাত করেছেন’, বিশ্বকর্মা যোজনার সূচনায় তোপ মুখ্যমন্ত্রীর
September 17, 20268:55 pm

কলকাতা: দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জট কাটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা’। কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় এমএসএমই মন্ত্রী জিতন রাম মাঝির উপস্থিতিতে এই প্রকল্পের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের অলিখিত নির্দেশে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ হস্তশিল্পী ও কারিগর এতদিন পর্যন্ত এই কেন্দ্রীয় সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত ছিলেন।
মূল ঘোষণা ও রাজনৈতিক বক্তব্য:
- ২০২৭-এ ব্রিগ্রেড উদযাপন: আগামী ২০২৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বন্ধ ঘরে নয়, বরং কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অন্তত পাঁচ লক্ষ সুবিধাভোগীকে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকর্মা দিবস পালন করা হবে।
- পরিযায়ী সংকটের কারণ: বিশ্বকর্মা পোর্টালে ৭ লক্ষ ৭০ হাজার কারিগরের নাম নথিভুক্ত থাকা সত্ত্বেও আগের সরকার জেলাশাসকদের মাধ্যমে কাজ আটকে রেখেছিল। এই বঞ্চনার ফলেই স্বর্ণ ও চামড়াশিল্পীদের সুরাট, দিল্লি বা জয়পুরের মতো ভিনরাজ্যে কাজ খুঁজতে যেতে হয়েছে।
- জনগণের জবাব: আয়ুষ্মান ভারত ও বিশ্বকর্মা যোজনা আটকে রাখা সরকারগুলোকে জনগণ ভোটের বাক্সে পরিবর্তন করে দিয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
কারিগরদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা:
- সনাতন দক্ষতার মূল্যায়ন: বংশানুক্রমিক শিল্পীদের সুবিধার জন্য কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র বাধ্যতামূলক থাকছে না।
- প্রশিক্ষণ ও টুলকিট: কারিগরদের আধুনিক প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষণকালীন নির্দিষ্ট ভাতা এবং প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম প্রদান করা হবে।
- জামানতমুক্ত ঋণ: স্টেট লেভেল ব্যাঙ্কার্স কমিটির (SLBC) মাধ্যমে সহজ শর্তে ও কম সুদে ঋণ মিলবে, যেখানে ঋণের গ্যারান্টার স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
- ভবিষ্যতের পরিকল্পনা: জাতীয় উদ্যম পোর্টালে নথিভুক্ত রাজ্যের ৬৩ লক্ষ ২২ হাজারের বেশি উদ্যোক্তাকে পিএমইজিপি (PMEGP) ও ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের আওতায় আনা হচ্ছে।
অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় গঙ্গার ঘাটে ১ লক্ষ প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে বিশেষ ‘আশীর্বাদ’ প্রার্থনাসভার কর্মসূচিতেও অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী ও প্রতিনিধি দল।