‘একজনকে জেল পাঠালে হাজারো মিলন নামবে!’ নন্দীগ্রামে প্রার্থী গ্রেপ্তারের পর চরম রাজনৈতিক উত্তাপ

‘একজনকে জেল পাঠালে হাজারো মিলন নামবে!’ নন্দীগ্রামে প্রার্থী গ্রেপ্তারের পর চরম রাজনৈতিক উত্তাপ

নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনী লড়াই থেকে কোনো অবস্থাতেই পিছু হটবে না কংগ্রেস। দলের প্রার্থী মিলন প্রধান গ্রেপ্তার হলেও ভোটে লড়বেন তিনি নিজেই। শনিবার হলদিয়া মহকুমা আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে এই কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।

শুভঙ্করবাবু স্পষ্ট জানান, আদালত যদি মিলনকে জেল হেফাজতে পাঠায়, তাহলেও দমে যাওয়ার পাত্র নয় কংগ্রেস। ‘হাজার হাজার মিলন প্রধানকে’ মাঠে নামিয়ে প্রচার চালানো হবে এবং ঘরে ঘরে লিফলেট বিতরণ করা হবে।

জাতীয় রাজনীতিতে তুমুল শোরগোল নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রত্যাশিতভাবেই জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ঘটনার কড়া নিন্দা জানিয়ে সোচ্চার হয়েছেন রাহুল গান্ধীসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জেরে তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন এবং কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তার পরপরই ১৯ বছরের পুরোনো এক মামলায় (২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন পর্বের ঘটনা) গ্রেপ্তার করা হয় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি কংগ্রেস প্রার্থীকে যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন শুভঙ্কর সরকার। তাঁর অভিযোগ, “আমাদের প্রার্থীর চোখে কাপড় বেঁধে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরানো হয়েছে এবং প্রার্থিপদ তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে আমাদের পর্যবেক্ষক শুভাশিস ভট্টাচার্যকেও গ্রেপ্তার করা হয়।”

কমিশনের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে নন্দীগ্রামের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হাতে। আমরা ডিজি এবং কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি, কিন্তু সকলেই দায় এড়াচ্ছেন।”

২০০৭ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির প্রশ্ন, “নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের সময় শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে আমরা অনেকেই ছিলাম। তাহলে এতদিন পর শুধুমাত্র মিলন প্রধানের বিরুদ্ধেই কেন এই বেছে বেছে পদক্ষেপ করা হচ্ছে?”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *