‘কেরিয়ার বুঝি শেষ, নতুন কাজ খুঁজতে হবে!’—চিন সীমান্তে গোয়েন্দা ছকের নেপথ্যকাহিনি জানালেন অজিত ডোভাল

‘কেরিয়ার বুঝি শেষ, নতুন কাজ খুঁজতে হবে!’—চিন সীমান্তে গোয়েন্দা ছকের নেপথ্যকাহিনি জানালেন অজিত ডোভাল

সবে গোয়েন্দা সংস্থায় যোগ দিয়েছেন, বয়স তখন মাত্র ২০-এর কোঠায়। কেরিয়ারের একদম শুরুতেই এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল, যাতে ধরে নিয়েছিলেন কেরিয়ার এখানেই শেষ! শনিবার রুরকি আইআইটি (IIT Roorkee)-র সমাবর্তন অনুষ্ঠানে নিজের জীবনের সেই রোমাঞ্চকর ও উৎকণ্ঠাময় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল।

ঘটনাটি ঠিক কী ঘটেছিল? সময়টা সত্তরের দশক। সিকিম তখন পুরোপুরি ভারতের অংশ হয়নি, সংযোজন প্রক্রিয়া চলছে। ডোভালকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সিকিমের গোয়েন্দা বিভাগের। সীমান্ত পেরিয়ে চিনের পিপিলস লিবারেশন আর্মি (PLA)-র গতিবিধির ওপর নজর রাখা ও গোপন তথ্য সংগ্রহ করাই ছিল তাঁর প্রধান কাজ।

সেই মতো সীমান্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আনার জন্য একটি গোয়েন্দা দলকে পাঠান তরুণ ডোভাল। চুক্তি ছিল—৮ দিনের মধ্যে মিশন শেষ করে ফিরতে হবে। কিন্তু দেখতে দেখতে ১৫ দিন কেটে গেলেও দলটির কোনো হদিস মিলল না!

উৎকণ্ঠা ও হেডকোয়ার্টারের ফোন call তখন হিমালয়ের চত্বরে কোনো তুষারধস বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের খবর ছিল না। ফলে তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে ডোভালের উদ্বেগ চরমসীমায় পৌঁছায়। ঠিক সেই সময় দিল্লি সদর দপ্তর থেকে ফোন আসে ডোভালের কাছে। জানতে চাওয়া হয়—‘আপনি কি কাউকে সীমান্ত পেরিয়ে ওপারে পাঠিয়েছেন?’

ডোভাল হাঁ সূচক জবাব দিতেই জানা যায় ভয়ঙ্কর সত্য—ভারতীয় গোয়েন্দা দলটি চিনা সেনার হাতে ধরা পড়েছে!

‘ভেবেছিলাম কেরিয়ার শেষ, পেটের তাগিদে অন্য কাজ করতে হবে’ কয়েক দিন পর কূটনৈতিক সমঝোতায় চিনা সেনা তাঁদের মুক্তি দেয় ঠিকই, কিন্তু যখন সেই এজেন্টরা দেশে ফেরেন, তাঁদের শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। সীমান্ত লঙ্ঘনের এই চরম ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয় উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত।

ডোভাল স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমি ধরে নিয়েছিলাম চাকরিটা এবার গেল। কেরিয়ার শেষ! এবার পেট চালাতে অন্য কোনো কাজ খুঁজতে হবে।”

তদন্তে প্রকাশ আসল সত্য তবে তদন্তের রিপোর্ট এলে চিত্রটা পুরোপুরি বদলে যায়। দেখা যায়, ডোভালের কাজে কোনো গাফিলতি ছিল না। সদর দপ্তর থেকে এজেন্টদের হাতে যে স্কেচ ও মানচিত্র দেওয়া হয়েছিল, তাতেই ভুল ছিল! মানচিত্রের ভুলের কারণেই ভুল পথে গিয়ে চিনা সেনার মুখোমুখি পড়েছিলেন তারা।

ফলস্বরূপ, অজিত ডোভালকে সমস্ত অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ ক্লিনচিট দেওয়া হয়। কেরিয়ারের শুরুর সেই বিরাট ফাঁড়া কাটিয়েই আজকের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিজের যাত্রা তৈরি করেছিলেন অজিত ডোভাল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *