তারাতলা গোডাউন বিপর্যয়: ৮৭ দিনের মাথায় ২ হাজার পাতার চার্জশিট সিট-এর, কাঠগড়ায় ৭

তারাতলা গোডাউন বিপর্যয়: ৮৭ দিনের মাথায় ২ হাজার পাতার চার্জশিট সিট-এর, কাঠগড়ায় ৭

তারাতলা গোডাউন ধসের ঘটনার ৮৭ দিনের মাথায় আলিপুর আদালতে প্রায় ২,০০০ পাতার চার্জশিট পেশ করল কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন ওএসডি/আপ্ত সহায়ক কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়সহ গ্রেফতার হওয়া সাতজনের নামই উল্লেখ করা হয়েছে এই চার্জশিটে। লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তকারী দল প্রায় ৭০ জন সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করেছে এবং দ্রুতই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।

কী ঘটেছিল ২৪ জুন?

গত ২৪ জুন তারাতলার ট্র্যান্সপোর্ট ডিপো রোডে একটি নির্মীয়মাণ গোডাউন আচমকা হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন বহু শ্রমিক। সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানো হলেও প্রাণ হারান ১৬ জন শ্রমিক।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পরই তারাতলা থানায় অনিচ্ছাকৃত খুন, খুনের চেষ্টা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তের ভার দেওয়া হয় সিট-কে (SIT)।

চার্জশিটে চরম গাফিলতির বিস্ফোরক তথ্য

তদন্তকারীদের দাবি, এই বিপর্যয় কোনো একক ভুলের ফল নয়, বরং একাধিক ব্যক্তির চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিণতি।

  • পরিকাঠামোগত ত্রুটি: পুরসভার অনুমোদিত নকশা (Plan) তোয়াক্কা না করেই নির্মাণকাজ চালানো হয়েছিল।
  • নিম্নমানের সামগ্রী: নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে ঢালাইয়ের চাপ সহ্য করতে না পেরে লোহার বিম বেঁকে যায়।
  • বিশেষজ্ঞদের সিলমোহর: চার্জশিটে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের টেকনিক্যাল রিপোর্টও যুক্ত করা হয়েছে।
  • আর্থিক লেনদেন: প্ল্যান অনুমোদন ও নির্মাণকাজের পিছনে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে।

কার কী ভূমিকা ছিল?

চার্জশিটে অভিযুক্ত ৭ জনের নির্দিষ্ট ভূমিকার কথা স্পষ্ট করেছে লালবাজার:

  • সৈয়দ মহম্মদ গুলজার (গুলজার হোসেন): প্রকল্পের সুপারভাইজার।
  • আমিনুর শেখ: প্ল্যানে স্বাক্ষরকারী এবং ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের নির্মাণ সংক্রান্ত দায়িত্বে ছিলেন।
  • কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়: প্রাক্তন মেয়রের ওএসডি।
  • কমল সামন্ত: পরিকাঠামোগত বিষয়ের ইঞ্জিনিয়ার।
  • শম্ভুনাথ বেহরা: জমি লিজ নিয়ে গোডাউন নির্মাণের মূল উদ্যোক্তা।
  • দিবাকর ভান্ডারী ও আব্দুল হামিদ (মহম্মদ আতাউর): শ্রমিকদের ঠিকাদার।

প্রথমে সিসিটিএনএস (CCTNS)-এর মাধ্যমে অনলাইনে এবং পরবর্তীতে সরাসরি প্রয়োজনীয় মূল নথি আলিপুর আদালতে জমা দিয়েছেন লালবাজারের আধিকারিকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *