স্পেস ফোর্সের পর ‘এআই ফোর্স’! বিশ্বজুড়ে আশঙ্কার মাঝেই ট্রাম্পের ধামাকাদার ঘোষণা

মহাকাশ জয়ের পর এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-এর দুনিয়ায় একাধিপত্য কায়েম করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপের ঘোষণা দিল আমেরিকা। বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদরা যখন এআই-এর অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন গুনছেন, ঠিক তখনই সব ঝুঁকি উড়িয়ে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তৈরি করতে চলেছেন ডেডিকেটেড ‘এআই ফোর্স’ (AI Force)।
কী থাকছে ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনায়?
- এআই ফোর্সের গঠন: যেভাবে মহাকাশ গবেষণায় মার্কিন ‘স্পেস ফোর্স’ গঠন করে সাফল্য পাওয়া গিয়েছিল, ঠিক একই মডেলে তৈরি হবে এই বিশেষ এআই ফোর্স।
- ‘এআই জার’ নিয়োগ: মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিজস্ব প্রযুক্তি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন অতি-উচ্চ আইকিউ (IQ) সম্পন্ন এক ‘এআই জার’ (AI Czar), যিনি পুরো বাহিনীর দেখভাল করবেন।
- অর্থনীতিতে বড় অবদান: ট্রাম্পের দাবি, এআই হলো আগামীর শিল্পবিপ্লব, যা অদূর ভবিষ্যতে মার্কিন জিডিপির (GDP) প্রায় ২৫ শতাংশ দখল করতে পারে।
আশঙ্কাকে ‘ভুয়ো’ আখ্যা ডোনাল্ড ট্রাম্পের: সম্প্রতি ওপেনএআই (OpenAI), অ্যানথ্রোপিক (Anthropic) এবং গুগলের জেমিনির (Gemini) মতো শীর্ষ এআই মডেলগুলোর হ্যাকিং ও নির্দেশ অমান্য করার খবর নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। কিন্তু এসব নিরাপত্তাজনিত সংশয়কে সম্পূর্ণ ‘ভুয়ো’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ডেমোক্র্যাট ও সমালোচকদের তীব্র আক্রমণ করে ট্রাম্প লেখেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মতোই এআই-সংক্রান্ত ভীতি প্রদর্শনও একটি ব্যর্থ তত্ত্ব। আমেরিকার উন্নতির স্বার্থে তিনি এ শিল্পে কোনো বাধা আসতে দেবেন না। চীনসহ সমগ্র বিশ্বকে এই প্রযুক্তিতে টেক্কা দিয়ে পথ দেখাবে আমেরিকা।
শব্দবন্ধ নিয়ে আপত্তি ও নতুন নামকরণ: মজার বিষয় হলো, ‘Artificial Intelligence’ বা ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ শব্দটিতেই আপত্তি রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। তাঁর মতে, ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি শুনতে শ্রুতিমধুর নয়। তাই এর বদলে তিনি ‘সুপিরিয়র ইন্টেলিজেন্স’ (Superior Intelligence) অথবা ‘এক্সট্রিম ইন্টেলিজেন্স’ (Extreme Intelligence) নামটি ব্যবহারের পক্ষপাতী।
বিশ্বজুড়ে কেন বাড়ছে উদ্বেগ? ট্রাম্প এআই শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার কথা বললেও বিশেষজ্ঞদের ঘুম হারাম হয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ উঠছে, এআই মডেলগুলো এখন নিজেদের অ্যালগরিদম তৈরি করে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হচ্ছে। সম্প্রতি গুগলের জেমিনির মতো মডেলের পাসওয়ার্ড আন্দাজ করে তিনটি বড় সংস্থার সিস্টেমে অনুপ্রবেশ ও অনভিপ্রেত আচরণের তথ্য সামনে এসেছে। এই ঝুঁকির মুখে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের এই চরম সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।