টাটা গ্রুপে মেগা সংঘাত! চন্দ্রশেখরণের পুনর্নিয়োগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নোয়েল টাটার

টাটা সন্স-এর চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরণের মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোকে কেন্দ্র করে টাটা গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতৃত্বের অন্দরে নজিরবিহীন সংঘাত তৈরি হয়েছে। সংস্থার পরিচালন পর্ষদ (Board of Directors) চন্দ্রশেখরণের পুনর্নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেই তার তীব্র বিরোধিতা করেন টাটা ট্রাস্টস-এর চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা। এই সিদ্ধান্তকে ‘প্রিম্যাচিওর’ বা অপক্ক বলে অভিহিত করে এবার আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে টাটা ট্রাস্টস।
কীভাবে শুরু হলো বিবাদ?
গত ১২ আগস্ট চন্দ্রশেখরণ নিজেই জানিয়েছিলেন যে, আগামী বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আর চেয়ারম্যান পদে থাকতে চান না। সেই অনুযায়ী টাটা ট্রাস্টস নতুন চেয়ারম্যান বাছাইয়ের জন্য ‘সিলেকশন কমিটি’ গঠনের কাজ শুরু করেছিল।
কিন্তু ১৭ সেপ্টেম্বর টাটা সন্সের পর্ষদ বৈঠকে ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে যায়। ৪-১ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় চন্দ্রশেখরণকে ফের ৫ বছরের জন্য চেয়ারম্যান পদে রাখার সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। পর্ষদে থাকা ট্রাস্টসের দুই পরিচালকের মধ্যে নোয়েল টাটা এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন। নোয়েলের অভিযোগ—ট্রাস্টসের মনোনীত পরিচালকদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন ছাড়া এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
আইনি ময়দানে মহারথীরা
টাটা সন্সের প্রায় ৬৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক টাটা ট্রাস্টস। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, পর্ষদের এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ট্রাস্টস।
- ট্রাস্টসের পদক্ষেপ: আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভিকে নিয়োগ করেছে টাটা ট্রাস্টস। পাশাপাশি ভারতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের আইনি পরামর্শও নেওয়া হয়েছে, যা ট্রাস্টসের অবস্থানকেই সমর্থন করে।
- টাটা সন্সের যুক্তি: অন্যদিকে টাটা সন্স শীর্ষ আইনজীবী সুদীপ্ত সরকার ও বি এন শ্রীকৃষ্ণের পরামর্শ নিচ্ছে। তাদের দাবি, গত ৩ সেপ্টেম্বর ‘নমিনেশন অ্যান্ড রেমিউনারেশন কমিটি’ সর্বসম্মতভাবে চন্দ্রশেখরণকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিল। সেই অনুরোধের ভিত্তিতেই পর্ষদ নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মৌলিক অধিকার ও বিধিমালার প্রশ্ন
রতন টাটার ঘনিষ্ঠ প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি সমাজমাধ্যমে ইঙ্গিত দিয়েছেন, শেয়ারহোল্ডারদের মৌলিক অধিকার কোনভাবেই ক্ষুণ্ণ করা যায় না। শতাব্দীপ্রাচীন ট্রাস্ট-নির্ভর কাঠামোর অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় হঠাৎ এমন বিধিনিষেধ চাপানো বড় আইনি প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
টাটা সন্সের শেয়ারবাজার লিস্টিং ও ভবিষ্যতের পথ
চেয়ারম্যান বিতর্ক চলার মাঝেই ১৭ সেপ্টেম্বরের পর্ষদ বৈঠকে টাটা সন্সকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত (Listing) করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। ফলে কেবল চেয়ারম্যানের মেয়াদ নয়, টাটা সন্সের ভবিষ্যৎ মালিকানা ও পরিচালনা সংক্রান্ত দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখন আইনি ও ব্যবসায়িক আলোচনার কেন্দ্রে।
সুপ্রিম কোর্ট বা আদালতে এই মামলা গড়ালে তার প্রভাব টাটা গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ পরিচালন কাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদী ছাপ ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।