‘আর্টিফিশিয়াল’ নয়, এবার ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’! AI নিয়ে ট্রাম্পের ধামাকা ঘোষণা, আসছে বিশেষ ‘AI Force’

‘আর্টিফিশিয়াল’ নয়, এবার ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’! AI নিয়ে ট্রাম্পের ধামাকা ঘোষণা, আসছে বিশেষ ‘AI Force’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলা উৎকণ্ঠার মাঝেই এক অভূতপূর্ব ও চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত সরকারি নথিপত্র থেকে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি বাদ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ (Super Intelligence) ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

কেন নাম বদলের সিদ্ধান্ত? ট্রাম্পের স্পষ্ট যুক্তি— ‘আর্টিফিশিয়াল’ বা কৃত্রিম শব্দটির মধ্যে একটি ‘নকল’ বা ‘ভুয়ো’ ভাব রয়েছে, যা প্রযুক্তিটিকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করে না। তাঁর মতে, এটি মোটেও নকল কিছু নয়, বরং একটি অত্যন্ত শক্তিধর প্রযুক্তি। ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’-এর পাশাপাশি এটিকে বোঝাতে ‘সুপিরিয়র ইন্টেলিজেন্স’ কিংবা ‘এক্সট্রিম ইন্টেলিজেন্স’ শব্দগুলি ব্যবহারের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।

AI ঘিরে আতঙ্ককে ‘চক্রান্ত’ আখ্যা জাতিসংঘের সাধারণ সভায় বক্তব্য রাখার সময় এআই সংক্রান্ত বিশ্বব্যাপী সতর্কতা ও আশঙ্কাকে সরাসরি ‘গ্লোবালিস্ট চক্রান্ত’ বলে উড়িয়ে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিশ্ব উষ্ণায়নের পূর্বাভাসের সঙ্গে তুলনা টেনে ট্রাম্প বলেন, “যাঁরা দাবি করেছিলেন জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য আগামী ১২ বছরের মধ্যে মানবজাতি ধ্বংস হয়ে যাবে, সেই একই গোষ্ঠী এখন রটাচ্ছে যে এআই আমাদের মেরে ফেলবে এবং রোবটরা আমাদের আক্রমণ করবে।”

আসছে ‘AI Force’ ও ‘AI জার’ নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুষ্ঠু বিকাশ ও নজরদারির জন্য তিনি দ্রুত একটি বিশেষ ‘AI Force’ গঠন করতে চলেছেন। পাশাপাশি সমগ্র বিষয়টি সামলাতে খুব শীঘ্রই একজন ‘AI জার’ (Czar) নিয়োগ করা হবে।

ডেমোক্র্যাট ও লিবারেল বিরোধীদের আক্রমণ করে ট্রাম্প দাবি করেন:

  • এআই প্রযুক্তি ধ্বংসের অপচেষ্টা আদতে ডেমোক্র্যাটদের একটি ‘হ্যাক্স’ বা ভুয়ো প্রচার।
  • নতুন প্রযুক্তিতে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও মার্কিন প্রশাসন এই শিল্পের বৃদ্ধি থামতে দেবে না, বরং এটিকে সুরক্ষা দেবে।
  • জলবায়ু পরিবর্তনের সতর্কতা বা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো বিষয়গুলিও যুক্তরাষ্ট্রকে পিছিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত।

আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও ট্রাম্পের অবস্থান একদিকে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের বৈঠকে ২০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এআই-এর ওপর কঠোর আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষাকবচ তৈরির দাবি জানাচ্ছেন; অন্যদিকে আমেরিকা ও চীন নিজেদের মধ্যে প্রযুক্তিগত উদ্বেগ কমাতে একটি বিশেষ কূটনৈতিক যোগাযোগ চ্যানেল তৈরির আলোচনায় ব্যস্ত। চলতি সপ্তাহেই ওয়াশিংটন সম্মেলনে ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মুখোমুখি বৈঠকের কথা রয়েছে, যার আগে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *