‘নীতি পুলিশি হোক শালীনভাবে!’ বিহারের মন্ত্রীর বয়ানে শোরগোল, পুলিশের গুলিতে ঘায়েল দুষ্কৃতী

‘নীতি পুলিশি হোক শালীনভাবে!’ বিহারের মন্ত্রীর বয়ানে শোরগোল, পুলিশের গুলিতে ঘায়েল দুষ্কৃতী

পাটনা: বিহারের জামুইয়ে দশম শ্রেণির এক কিশোরীকে পথ আটকে শ্লীলতাহানি ও নির্মম নিগ্রহের ঘটনায় তোলপাড় সারা দেশ। ঘটনার আবহে বিতর্ক আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক তথা বিহারের ক্রীড়ামন্ত্রী শ্রেয়সী সিং। নীতি পুলিশি সংক্রান্ত এক বেফাঁস মন্তব্যের জেরে চরম বিপাকে পড়েছে রাজ্য সরকার।

মন্ত্রীর মন্তব্য ও বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ ঘটনার প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী শ্রেয়সী সিং মন্তব্য করেন, “নীতি পুলিশি আরও মার্জিত ও ভদ্রভাবে করা যায়। যেভাবে হেনস্তা ও দুর্ব্যবহার করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না।” মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ক্ষোভের মুখে পড়ে তিনি সাফাই দেন যে, কারো জীবনযাপন নিয়ে মতামত থাকতেই পারে, তবে তা শালীনভাবে প্রকাশ করা উচিত।

এর আগেই বিহার সরকারের আর এক মন্ত্রী শ্রাবণ কুমার এই বর্বর ঘটনাকে ‘ছোটোখাটো বিষয়’ বলে বিতর্ক উসকে দিয়েছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়ে বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব কটাক্ষ করে বলেন, “মন্ত্রী কি তবে চাইছেন নীতি পুলিশের নামে যৌন হেনস্তা কিংবা নিগ্রহ আরও মার্জিতভাবে হোক?” রাজ্যে ‘গুন্ডারাজ’ চলছে অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর পদত্যাগ দাবি করেন তিনি। পরিস্থিতি সামলাতে উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সব অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশের এনকাউন্টারে গুলিবিদ্ধ মূল অভিযুক্ত অন্যদিকে, ঘটনার মূল অভিযুক্ত নন্দন যাদবকে ধরতে বড় সাফল্য পেয়েছে বিহার পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে তাকে নিয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল জামুইয়ের মাদওয়া হিলে তদন্তে যায়। সে সময় নন্দন পুলিশের হাত ফস্কে পালিয়ে পাহাড়ি এলাকায় লুকোনোর চেষ্টা করে। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে ধাওয়া করলে পুলিশকে লক্ষ্য করে পালানোর চেষ্টা চালায় সে। জবাব দিতে পুলিশ গুলি চালালে নন্দনের বাঁ পায়ে গুলি লাগে।

এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) কে সুহিতা অনুপম জানান, আহত নন্দনকে জামুই সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিগ্রহের ভাইরাল ভিডিয়োতে ওড়নায় মুখ ঢাকা দুষ্কৃতীটি এই নন্দনই ছিল। এই ঘটনায় এ পর্যন্ত তিন জন প্রাপ্তবয়স্ক ও তিন জন নাবালকসহ মোট ছ’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কী ঘটেছিল জামুইয়ে? গত শনিবার টিউশন শেষ করে এক সহপাঠীর সঙ্গে স্কুটারে চেপে মাদওয়া পাহাড়ে বেড়াতে যায় ১০ম শ্রেণির ওই ছাত্রী। সেখানে একদল দুষ্কৃতী তাদের পথ আটকে হেনস্তা করে। ভিডিওতে দেখা যায়, নন্দন নামের ওই যুবক কিশোরীকে পিছন থেকে জাপটে ধরে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এই নির্মম নিগ্রহের ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ মানুষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *