ইডির চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট! পরিবারসহ এবার তদন্তের মুখে পিনারাই বিজয়ন

কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড (CMRL) সংক্রান্ত বহুচর্চিত ঘুষ ও আর্থিক তছরুপের মামলায় বেকায়দায় কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান সিপিআই(এম) নেতা পিনারাই বিজয়ন। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) দেওয়া বিস্ফোরক তথ্যের ভিত্তিতে বিজয়ন, তাঁর কন্যা টি বীণা এবং জামাই পি এ মহম্মদ রিয়াসের বিরুদ্ধে আইনি তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার।
ইডির মূল অভিযোগ:
- অন্যায় সুবিধা ও ঘুষ গ্রহণ: কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বেসরকারি খনিজ সংস্থা সিএমআরএল-কে সরকারি নীতিগত সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।
- ‘ফেক’ সার্ভিসে ২.৭৮ কোটি: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কন্যা বীণার অধুনালুপ্ত আইটি সংস্থা ‘এক্সাভলজিক সলিউশনস’ (Exalogic Solutions)-কে কোনও পরিষেবা ছাড়াই প্রায় ২.৭৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। ইডির দাবি, এটি বিজয়নকে দেওয়া ঘুষেরই অংশ।
- হাওয়ালা যোগ: এই লেনদেনের পেছনে হাওয়ালা নেটওয়ার্ক এবং বিজয়ন-কন্যা ও জামাইয়ের প্রত্যক্ষ যোগসাজশের ইঙ্গিত রয়েছে বলে ইডির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারের পদক্ষপ ও আইনি প্রক্রিয়া: ইডি ডিজি রাভাদা চন্দ্রশেখরকে চিঠি দিয়ে দুর্নীতি দমন আইনে এফআইআর করার আবেদন জানায়। বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকার অ্যাডভোকেট জেনারেল జাজু বাবুর পরামর্শ নিলে তিনি জানান, প্রাপ্ত তথ্যে অপরাধের উপাদান থাকলে পুলিশ প্রাথমিক অনুসন্ধান চালাতেই পারে। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালার বৈঠকে তদন্তে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, পিমএলএ (PMLA) আইনে কেন্দ্রীয় সংস্থার তথ্য এড়িয়ে যাওয়ার কোনও সুযোগ সরকারের নেই।
উত্তপ্ত কেরলের রাজনীতি: এই তদন্তের নির্দেশ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক জলঘোলা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জামাই মহম্মদ রিয়াস নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জানান, তিনি তদন্তের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। তবে দেশজুড়ে বিরোধীরা যখন ইডির অপব্যবহার নিয়ে সোচ্চার, তখন কংগ্রেস সরকার কেন ইডির কথা মেনে পদক্ষেপ করছে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। অন্যদিকে, সিপিআই(এম) নেতৃত্বের পাল্টা অভিযোগ, বামপন্থীদের রাজনৈতিকভাবে কোনঠাসা করতে কংগ্রেস ও বিজেপি একজোট হয়ে ষড়যন্ত্র করছে। যদিও এর আগেই বিজয়ন সমস্ত অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।