‘সিপিএম এখন মমতার বন্ধু!’ বাম-তৃণমূল সখ্যতা নিয়ে বিস্ফোরক শুভেন্দু

‘সিপিএম এখন মমতার বন্ধু!’ বাম-তৃণমূল সখ্যতা নিয়ে বিস্ফোরক শুভেন্দু

কলকাতা: বঙ্গরাজনীতিতে সমীকরণ বদলের পূর্বাভাস মিলতেই তৃণমূল ও সিপিএম-কে একযোগে তীব্র আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যে সিপিএমের ‘সন্ত্রাস’ ও ‘অত্যাচারের’ বিরুদ্ধে লড়াই করে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম হয়েছিল, আজ সেই সিপিএমের দিকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়াকে ঘিরে রাজনীতির পারদ তুঙ্গে।

রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সিপিএমের সীমাহীন মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অত্যাচার-অবিচারের বিরোধিতা করতেই একসময় তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। আর আজ সেই চরম শত্রু সিপিএম-ই তৃণমূলের নতুন বন্ধু হয়ে উঠেছে!”

শুভেন্দু বাম আমলের একাধিক রক্তাক্ত ঘটনার উল্লেখ করে স্মরণ করিয়ে দেন হাওড়ার আমতায় কর্মী হত্যা, সুচপুরের খেতমজুর হত্যা, ছোট আঙারিয়া এবং বানতলা-ধানতলার মতো ঘটনার কথা। তাঁর কটাক্ষ, “যার নির্দেশে একসময় বিরোধীদের ওপর এত অত্যাচার হয়েছিল, সেই সিপিএমের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গেই এখন ফোনে কথা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী। আসলে নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করছে জোড়াফুল শিবির।”

সম্প্রতি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ায় বিজেপি বিরোধী মঞ্চে তৃণমূল ও সিপিএমের দূরত্ব কিছুটা কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার বিতর্ক ও ‘সার’ ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাম সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে কথা হয়েছে মমতার। এমনকি শ্রীরামপুরের সভা থেকেও মমতা ইঙ্গিত দেন, দরকারে একসঙ্গে বৈঠকও করা যেতে পারে। এরপরই ‘কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা’র নীতি নিয়ে তৃণমূল কর্মীদের আদর্শগত বিভ্রান্তিতে ফেলতে মাঠে নেমেছেন বিরোধী দলনেতা।

অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বের দাবি—বিপদে পড়লেই বিরোধীদের একজোট করার নাটক শুরু করেন মমতা, কিন্তু তার ফল শেষ পর্যন্ত কিছুই হয় না। দিল্লির ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের বৈঠকের পর সুপ্রিয়া ও সোনিয়া গান্ধীর সাথে মমতার পৃথক আলোচনার সম্ভাবনা থাকলেও, শেষমেশ এই সমঝোতা কতটা স্থায়ী হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

তবে বিজেপির এই আক্রমণকে পাত্তা দিতে নারাজ সিপিএম। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর পাল্টা দাবি, “শুভেন্দুর এই ধরণের মন্তব্যই প্রমাণ করে যে তিনি ভয় পেয়েছেন। মানুষ আজ বুঝতে পেরেছে তৃণমূল ও বিজেপি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। মাঠে যখন লাল ঝান্ডা শক্ত হাতে লড়াই করছে, তখন বিজেপি ভয় পেয়ে বামপন্থীদের ওপর বিষোদগার করছে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *