সাধুদের গায়ে হাত দিলেই সোজা জেল! কলকাতার গীতা পাঠের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর চরম হুঁশিয়ারি

কলকাতা: নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে রবিবার এক অভূতপূর্ব ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল। প্রায় ১১ হাজার ভক্ত ও সাধারণ মানুষের কণ্ঠে একসঙ্গে ধ্বনিত হলো শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার স্লোক। তবে এই গীতা পাঠের মঞ্চ কেবল সুর ও ভক্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, সেখান থেকেই রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমীকরণে পারদ চড়িয়ে এক কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
সাধু-সন্তদের অপমানে কঠোর শাস্তির হুঙ্কার অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সনাতন ধর্ম এবং সাধু-সন্তদের অপমান কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর সাম্প্রতিক বাংলা সফর ও ভবানীপুরে ঘটে যাওয়া বিতর্কিত ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে নাম না করে বিরোধীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “সংবিধান সবাইকে বাক স্বাধীনতা দিয়েছে। সাধু-সন্তরা সনাতন ধর্মের মহিমা প্রচার করবেন—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যাঁরা তাঁদের অপমান করার স্পর্ধা দেখাবেন বা সাধুদের গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সোজা জেলে যেতে হবে।”
“সনাতন সংস্কৃতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর সরকার” উপস্থিত ভক্তদের ভয় না পেয়ে নিঃসঙ্কোচে গীতা পাঠের আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান সরকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সুরক্ষায় কাজ করছে। তাঁর কথায়, “রাজ্যে এখন এমন এক সরকার রয়েছে, যা ঐতিহ্যগতভাবে টিকা, শিখা, ধুতি ও তুলসীকে সম্মান জানাতে জানে।” পাশাপাশি সমাজকে বিভক্ত করতে চাওয়া শক্তিগুলির বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দেন তিনি।
২৯ ডিসেম্বরে ১০ লক্ষ মানুষের মেগা গীতা পাঠ এদিনের অনুষ্ঠান থেকেই পরবর্তী বিশাল কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়। আগামী ২৯ ডিসেম্বর কলকাতার মাটিতে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের অংশগ্রহণে একটি ঐতিহাসিক ও মেগা গীতা পাঠ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। জানা গেছে, সেই ঐতিহাসিক কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) সরসংঘচালক মোহন ভাগবত।
ধর্মীয় ঐক্য, সংস্কৃতি রক্ষা এবং সাধু-সন্তদের সুরক্ষায় জেলের চরম হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে গীতা পাঠের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চর্চার তুঙ্গে।