১৬ হাজার অবৈধ নির্মাণে বুলডোজার আতঙ্কে রাস্তায় জনতা! মিরাটে মন্ত্রী দিলেন বড় আশ্বাস

১৬ হাজার অবৈধ নির্মাণে বুলডোজার আতঙ্কে রাস্তায় জনতা! মিরাটে মন্ত্রী দিলেন বড় আশ্বাস

সুপ্রিম কোর্টের একটি কঠোর নির্দেশকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশের মিরাটে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা ও উচ্ছেদের আতঙ্ক। আদালতের নির্দেশে শহরের ‘জোন এ’-তে থাকা প্রায় ১৬,৭২৬টি বেআইনি ও অনুমোদনহীন নির্মাণ সিলগালা করা অথবা ভেঙে ফেলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক বাড়ি ও দোকান উচ্ছেদের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভিটেমাটি হারানোর ভয়ে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করেছেন।

তবে সাধারণ মানুষের এই আতঙ্কের মাঝেই পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের শক্তি প্রতিমন্ত্রী সোমেন্দ্র তোমর।

আদালতের কড়া অবস্থান ও সমীক্ষা গত ২১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট মিরাট শহরকে চারটি জোনে ভাগ করে একটি নির্দেশ জারি করে। আদালতের নির্দেশ মেনে ১৬টি বিশেষ দল সমীক্ষা চালিয়ে ‘জোন এ’-তে মোট ১৬,৭২৬টি অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিত করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর মধ্যে রয়েছে:

  • ১২,৯০৭টি আবাসিক বাড়ি
  • ৮৭৪টি মিশ্র-ব্যবহারের (কম্বাইন্ড) সম্পত্তি
  • ২,৯৪৫টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান

এই সমস্ত অননুমোদিত নির্মাণের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বি, সি ও ডি জোনের সমীক্ষা রিপোর্ট পরবর্তী শুনানিতে জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া, শহরের উপকণ্ঠে উলদেপুরে অবৈধ আবাসিক কলোনি গড়ে ওঠার বিষয়টি তদন্ত করতে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি সুধাংশু ধুলিয়ার নেতৃত্বে একটি বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করা হয়েছে।

ক্ষুব্ধ জনতার ক্ষোভ ও প্রশাসনের হুঁশিয়ারি উচ্ছেদের আশঙ্কায় সোচ্চার হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ডঃ রবীন্দ্র তোমরের নেতৃত্বে ক্ষতিগ্রস্তদের একটি প্রতিনিধিদল জেলা শাসক (DM) ডঃ ভি. কে. সিং-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তবে জেলা প্রশাসন পরিষ্কার জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশের বিরোধিতা করলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যদিও সাধারণ মানুষকে তাঁদের দাবি বা আপত্তি লিখিতভাবে জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রীর আশ্বাস ও নতুন সমীক্ষা পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নেমেছেন রাজ্য সরকারের মন্ত্রী ডঃ সোমেন্দ্র তোমর। তিনি স্বীকার করেন যে, এক লপ্তে এত নির্মাণ ভাঙার খবরে মানুষের চিন্তিত হওয়া স্বাভাবিক।

জনগণকে আশ্বস্ত করে মন্ত্রী জানান, মিরাট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (MDA) খুব শীঘ্রই প্রতিটি সম্পত্তি পুনরায় খতিয়ে দেখার জন্য নতুন করে জরিপ চালাবে, যাতে কোনো নির্দোষ মানুষ অযথা হয়রানির শিকার না হন। এর পাশাপাশি, যেসব পরিবার বা ব্যবসায়ী সত্যিই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তাঁদের পুনর্বাসনের জন্য সরকার ব্যবস্থা নেবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সামনে কঠিন পথ একদিকে সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ কার্যকর করা, আর অন্যদিকে হাজার হাজার মানুষের রুটি-রুজি ও মাথার ওপর ছাদ বাঁচানো—এই দুইয়ের চাপে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে মিরাট জেলা প্রশাসন। এখন নতুন করে হতে যাওয়া সমীক্ষায় মানুষের ভাগ্য কতটা বদলায়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা মিরাট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *