বোলপুরে রাতে প্রকাশ্য রাস্তায় বিজেপি নেতাকে গুলি! কপাল ফুঁড়ে বেরোল কার্তুজ, চরম চাঞ্চল্য

বোলপুরে রাতে প্রকাশ্য রাস্তায় বিজেপি নেতাকে গুলি! কপাল ফুঁড়ে বেরোল কার্তুজ, চরম চাঞ্চল্য

বোলপুর: ভরসন্ধ্যায় প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি চালিয়ে এক বিজেপি নেতাকে নৃশংসভাবে খুন করল আততায়ীরা। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের বোলপুরের ত্রিশুলাপট্টি এলাকায়। নিহত নেতার নাম চন্দন ভল্লা, যিনি স্থানীয় বিজেপি-র বুথ সভাপতি ছিলেন। গুলির আঘাতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। এই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে সমগ্র এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুষ্কৃতীরা চন্দনবাবুকে একটি অন্ধকার গলির মধ্যে ডেকে নিয়ে গিয়ে মাথার পিছন দিক থেকে খুব কাছ থেকে গুলি করে। গুলিটি তাঁর কপাল ফুঁড়ে বেরিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, সঠিক তদন্ত ও ময়নাতদন্তের স্বার্থে দেহ রামপুরহাট বা বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হতে পারে।

পরিবারের অভিযোগ ও তৃণমূলকে নিশানা: ঘটনার পর থেকেই নিহতের পরিবার কান্নায় ভেঙে পড়েছে। চন্দনবাবুর স্ত্রী অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক শত্রুতার কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে এবং এর পেছনে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের হাত রয়েছে। তাঁর দাবি, ভোটের আগে থেকেই তৃণমূলের কয়েকজন নেতা চন্দনবাবুকে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে আসছিল। তবে নিহতের দাদা জানান, রবিবার সন্ধ্যায় চন্দনবাবু ত্রিশুলাপট্টিতে রাস্তার ধারের একটি দোকান থেকে খাবার খাচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় একটি সাদা গাড়িতে ৩ জন দুষ্কৃতী এসে তাঁকে গলিতে ডেকে নিয়ে গিয়ে গুলি চালায়।

তদন্তে পুলিশ ও ফরেনসিক টিম: খবর পেয়েই রাতেই হাসপাতালে হাজির হন স্থানীয় বিজেপি বিধায়করা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বীরভূমের পুলিশ সুপার। এলাকায় পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় ক্লু উদ্ধারে রাত থেকেই নামানো হয় পুলিশের স্নিফার ডগ। সোমবার সকালেও ফের ডগ স্কোয়াড নিয়ে এসে এলাকা তল্লাশি করা হয়। দ্রুত ঘটনাস্থলে ফরেনসিক টিম পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং এলাকার সম্ভাব্য সব তথ্য খতিয়ে দেখে আততায়ীদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এটি নিছকই রাজনৈতিক বিবাদ নাকি এর পেছনে অন্য কোনো পুরোনো শত্রুতা বা ব্যক্তিগত কারণ রয়েছে, তা নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *