হাইকোর্টের নির্দেশের পর পুলিশি ‘অতিসক্রিয়তা’! চরম অনিশ্চয়তায় ঐতিহ্যবাহী গ্যালিফ স্ট্রিট

কলকাতা: কলকাতা হাইকোর্টের সাম্প্রতিক এক নির্দেশের পর চরম সংকটে পড়েছে শহরের ঐতিহ্যবাহী গ্যালিফ স্ট্রিটের পশুপাখির হাট। পশু নির্যাতন ও বেআইনি চোরাচালান রুখতে আদালতের কড়া নজরদারির নির্দেশকে পুলিশ-প্রশাসন ‘অতিসক্রিয়তা’ হিসেবে ব্যবহার করছে বলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, বৈধ ট্রেড লাইসেন্স ও সরকারি অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও ভয়ের আবহে গত দুই রোববার পসরা নিয়ে বসতে পারেননি অধিকাংশ বিক্রেতাই। এর ফলে রুজি-রুটি বন্ধ হওয়ার মুখে দাঁড়ানো প্রায় ৬০০ জন ব্যবসায়ী অবশেষে ন্যায়বিচারের আসায় কলকাতা হাইকোর্টের দরজায় কড়া নেড়েছেন।
আদালতের নির্দেশ ও বর্তমান জট: গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল, গ্যালিফ স্ট্রিটসহ রাজ্যের সব পশুর বাজারে পশুদের ওপর নির্যাতন ও চোরাচালান বন্ধ করতে সাদা পোশাকের পুলিশ এবং শুল্ক বিভাগ যৌথভাবে নজরদারি চালাবে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এই নির্দেশের দোহাই দিয়ে পুলিশি হয়রানি এতটাই বেড়েছে যে বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই আসতে ভয় পাচ্ছেন।
সোমবার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পক্ষে আইনজীবী ব্রজেশ ঝা বিষয়টি প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের নজরে আনেন। আবেদনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “কীভাবে আপনারা এই পশুপাখি বিক্রি করেন?”
আদালত জানিয়েছে, আগামী ৬ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ওই দিন সব পক্ষের বক্তব্য শুনে হাইকোর্ট কোনো স্থায়ী সমাধানের পথ দেখায় কি না, সেদিকেই বুক বাঁধার চেষ্টা করছেন গ্যালিফ স্ট্রিটের শত শত ব্যবসায়ী পরিবার।