‘আবার লড়াইয়ের প্রস্তুতি!’ বকেয়া ডিএ-র নতুন বিজ্ঞপ্তিতে চরম ক্ষুব্ধ ভাস্কর ঘোষ, রাজ্যকে সরাসরি হুঙ্কার

‘আবার লড়াইয়ের প্রস্তুতি!’ বকেয়া ডিএ-র নতুন বিজ্ঞপ্তিতে চরম ক্ষুব্ধ ভাস্কর ঘোষ, রাজ্যকে সরাসরি হুঙ্কার

পঞ্চম পে কমিশনের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) মেটানো নিয়ে অর্থ দপ্তরের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি ঘিরে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। নতুন হিসেব পদ্ধতি ও শর্তাবলি সামনে আসতেই চরম উদ্বেগ ছড়িয়েছে কর্মী মহলে। এই আবহে এবার অর্থ দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’-এর আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ।

হিসেব পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন ও মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের অবমাননার অভিযোগ

সামাজিক মাধ্যমে সোচ্চার হয়ে ভাস্কর ঘোষ লেখেন, ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া নির্ণয়ের যে পদ্ধতি অর্থ দপ্তর বের করেছে, তা অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর। আগে ১০০ ভাগের মধ্যে মাত্র ৪৩ ভাগ দিয়ে বলা হয়েছিল ‘সব দিয়ে দিলাম’। আর এবার যে গাণিতিক হিসেব কষা হয়েছে, তাতে কর্মীদের প্রাপ্য শূন্য শতাংশে নামিয়ে এনে ‘সব বকেয়া মেটানো হয়েছে’ বলে দাবি করার রাস্তা তৈরি করা হয়েছে।

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সময় এই ভুল হিসেব নিয়ে কথা হলে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে সঠিক হিসেব মেনেই বকেয়া মেটানো হয়। তৎক্ষণাৎ অর্থ সচিবকেও সেই নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমান বিজ্ঞপ্তি সেই নির্দেশের সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী।

‘আমলা নির্ভর হলে সরকারের ছবি খারাপ হতে সময় লাগবে না’

ভাস্করবাবুর স্পষ্ট বক্তব্য, অর্থ দপ্তরের এই মনোভাব কর্মীদের সঙ্গে ফের সংঘাত ডেকে আনছে। রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে তাঁর হুঁশিয়ারি, “এরপর সরকার ঠিক করুক আমাদের সাথে সম্পর্কের বিন্যাস কীভাবে চাইছে। সরকার যদি আমলা নির্ভর হয়, তবে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে বেশি সময় লাগবে না।” পাশাপাশি, সর্বভারতীয় মূল্যসূচক (AICPI)-এর সরকারি ও প্রকৃত হিসেব তুলে ধরে একটি তুলনামূলক তথ্যও প্রকাশ করেন তিনি।

কী বলা হয়েছে নতুন বিজ্ঞপ্তিতে?

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে গ্রুপ এ, বি এবং সি শ্রেণির সরকারি কর্মীদের পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া ডিএ-র অংশ জিপিএফ (GPF)-এ জমা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তহবিল থেকে টাকা তোলার সময় তা আয়করের আওতায় আসবে। পাশাপাশি, ভুলবশত কোনো কর্মীকে আগে বেশি টাকা দেওয়া হয়ে থাকলে (ওভারড্রল), তা জিপিএফ থেকে কেটে নেওয়ারও নিয়ম রাখা হয়েছে।

মালহোত্রা কমিটির দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি

অর্থ দপ্তরের এই শর্ত ও আয়কর কাটার নিয়মে ঘোর আপত্তি জানিয়েছে ‘কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ’। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়ের দাবি, কেন্দ্র ঘোষিত আসল AICPI মেনে বকেয়া হিসাবই করা হয়নি। রাজ্য সরকারের এই অনিয়মের বিষয়টি এবার সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত মালহোত্রা কমিটির দৃষ্টিগোচর করা হবে বলে তিনি জানান। সব মিলিয়ে, বকেয়া ডিএ ইস্যুতে রাজ্য বনাম সরকারি কর্মী সংঘাত নতুন করে আইনি ও আন্দোলনমুখী রূপ নিতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *