ICDS মামলায় নয়া মোড়! প্রাক্তন বিধায়ক অজিত মাইতির চালকের বাড়িতে হানা, আটক ১

পিংলার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অজিত মাইতির অস্বস্তি এবার আরও একধাপ বাড়ল। আইসিডিএস (ICDS) চাকরি দুর্নীতির তদন্তে নেমে বুধবার ভোরে অজিত মাইতির গাড়িচালক প্রণব মণ্ডলের বাড়িতে হানা দেয় খড়্গপুর লোকাল থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে বস্তা বস্তা অ্যাডমিট কার্ডের জেরক্স, চাকরিপ্রার্থীদের বায়োডাটা ও ব্যাঙ্কের গুরুত্বপূর্ণ নথি।
ভোর ৪টেয় পুলিশের চিরুনি তল্লাশি বুধবার ভোর ৪টে নাগাদ ফুলগেড়িয়ার বাসিন্দা প্রণব মণ্ডলের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। টিনের ছাউনি দেওয়া ঘরে তল্লাশি চালিয়ে সরকারি চাকরির পরীক্ষার গুচ্ছ গুচ্ছ অ্যাডমিট কার্ড, বায়োডাটা এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত প্রচুর নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়। তল্লাশি শেষে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে একটি ল্যাপটপ এবং চালক প্রণবকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
কেন চালকের ঘরে চাকরির নথি? একজন সাধারণ গাড়িচালকের বাড়িতে কেন চাকরিপ্রার্থীদের অ্যাডমিট কার্ড ও বায়োডাটা জমা রাখা হয়েছিল? কার নির্দেশে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হতো? উদ্ধারের পিছনে অন্য কোনো বড় অর্থ লেনদেনের মেগা চক্র রয়েছে কি না, তা জানতে প্রণবকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা।
কোণঠাসা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ১৫ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হয়েছিলেন অজিত মাইতি। পরে তিনি জামিন পেলেও মুক্তি পাননি। আইসিডিএস-এ চাকরি দেওয়ার নামে ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ফের গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। মঙ্গলবার আদালত অজিতকে ৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। তাঁকে জেরা করেই গাড়িচালক প্রণবের ডেরার কথা জানতে পারেন তদন্তকারীরা।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পিংলা আসনে বিজেপির স্বাগতা মান্নার কাছে পরাজিত হয়েছিলেন অজিত মাইতি। জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি থাকাকালীন পর পর এই ধরনের দুর্নীতি মামলায় জড়ানোয় তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ যে বড়সড় প্রশ্নের মুখে, তা বলাই বাহুল্য।