সংসারে ঢুকছে সোশ্যাল মিডিয়ার ছায়া! হোয়াটসঅ্যাপ-ফেসবুকেই কেন বাড়ছে বিচ্ছেদ?

আজকের ব্যস্ত জীবনে বহু দম্পতিরই যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুকে আড্ডা। কর্মসূত্রে বা সময়ের অভাবে মুখোমুখি কথা বলার সুযোগ না থাকায় গদগদ প্রেম থেকে শুরু করে তীব্র ঝগড়া—সবটাই বন্দী থেকে যাচ্ছে চ্যাটবক্সে। কিন্তু সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ডিজিটাল অভ্যাসই দাম্পত্য জীবনে নিয়ে আসছে চরম বিপর্যয়। রাগের মাথায় পাঠানো কোনো পুরনো মেসেজ বা সোশাল মিডিয়ায় ভেসে ওঠা স্মৃতি সহজে মুছে যায় না, যা পুরনো বিবাদ ও ক্ষতকে আবার নতুন করে উসকে দেয়। ফলে অতীতে ভুলে যাওয়া ভুলগুলো ক্ষমা করে সামনে এগিয়ে যাওয়া দম্পতিদের জন্য প্রায় আসাম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা সরাসরি গড়াচ্ছে আদালতে।
অন্যের পরিমার্জিত সোশাল মিডিয়া পোস্ট দেখে নিজের জীবন ও সম্পর্কের তুলনা করার প্রবণতাও এই বিচ্ছেদের অন্যতম বড় কারণ। ডিজিটাল দুনিয়ায় সবাই নিজেদের জীবন সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে, যার নেতিবাচক প্রভাব অন্য দম্পতিদের মনে অহেতুক হতাশা ও অসন্তোষ তৈরি করে। না জেনে অপরের ভার্চুয়াল জীবনের সাথে নিজেদের তুলনা করতে গিয়ে একে অপরের প্রতি ক্ষোভ ও অবিশ্বাস বাড়তে থাকে। একই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অজস্র মানুষের সাথে অতিরিক্ত মেলামেশা দাম্পত্যের পরম বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। ফলে বহু বছর ধরে গড়ে ওঠা মজবুত সম্পর্কগুলোও মুহূর্তের মধ্যে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে বলে সতর্ক করছেন আইন ও সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।