ককপিট ক্রাইসিস: রক্তে ভেসেও ছাড়েননি কন্ট্রোল! ১ বছর আগের পডকাস্টে কী বার্তা দিয়েছিলেন নায়ক স্মিত?

মাঝআকাশে ককপিট ক্রাইসিস ও ভাইরাল পডকাস্ট দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেল আভিভের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 ফ্লাইট। মাঝআকাশে আচমকাই ঘটে এক নারকীয় ঘটনা। বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে কম্যান্ডার পাইলট স্মিত মচ্ছরের ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালান ওমানের বাসিন্দা কো-পাইলট।
ছুরির আঘাতে ক্ষতবশত ও রক্তাক্ত হওয়া সত্ত্বেও এতটুকু আত্মবিশ্বাস হারাননি স্মিত। নিজের জীবন বাজি রেখে লড়ে যান এবং আততায়ীর হাত থেকে বিমানের কন্ট্রোল হাতছাড়া হতে দেননি। নিরাপদ অবতরণের পর রক্তাক্ত কম্যান্ডারকে দেখে বিমানে উপস্থিত যাত্রীরা কৃতজ্ঞতায় বলে ওঠেন— “You saved the plane, you did well!” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সোশাল মিডিয়ায় স্মিতের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বার্তা দিয়েছেন।
এই বীরত্বপূর্ণ ঘটনার পরই সোশাল মিডিয়ায় তোলপাড় ফেলেছে এক বছর আগে ক্যাপ্টেন স্মিতের দেওয়া একটি পডকাস্ট। ককপিটে কঠিন পরিস্থিতিতে কীভাবে মাথা ঠান্ডা রাখতে হয়, যেন এক বছর আগেই তার পাঠ দিয়ে রেখেছিলেন স্মিত।
পডকাস্টে কী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন স্মিত?
- ‘মনোযোগই শেষ কথা’: পডকাস্টে স্মিত বলেছিলেন, একজন পাইলটের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো ককপিট ও তার আশেপাশের পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি (Monitoring) রাখা।
- ভয় না পাওয়ার বার্তা: তিনি উল্লেখ করেছিলেন, “When we don’t talk, that doesn’t mean we are scared” (আমরা কথা বলছি না মানেই এই নয় যে আমরা ভয় পেয়েছি)। জীবনের প্রথম দিন থেকেই যাত্রীদের সুরক্ষাই তাঁর মূল মন্ত্র।
- অতীতেও সামলেছেন জরুরি পরিস্থিতি: একবার তাঁর উড়ানে এক অন্তঃসত্ত্বা যাত্রী সন্তান প্রসব করেছিলেন। শান্ত মাথায় কাছের বিমানবন্দর ও আবহাওয়া যাচাই করে মা ও শিশুর জীবন বাঁচান তিনি।
- সঠিক যোগাযোগ: দীর্ঘ উড্ডয়নের সময় টানা মনোযোগ ধরে রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সরাসরি যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়েও জোর দিয়েছিলেন তিনি।
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার থেকে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন: কে এই স্মিত মচ্ছর?
- অভিজ্ঞতা: মুম্বইয়ের বাসিন্দা স্মিত মূলত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েন। তবে বাবার ভরসায় আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নপূরণে পা বাড়ান অ্যাভিয়েশনে। ১৬-১৭ লক্ষ টাকা খরচ করে গুরুগ্রাম ও নিউ জিল্যান্ড থেকে কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স (CPL) অর্জন করেন।
- উড্ডয়ন রেকর্ড: বোয়িং ৭৩৭ বিমান চালানোর ১৩ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে স্মিতের। ঝুলিতে রয়েছে ৯,৫০০ থেকে ৯,৭৫০ ঘণ্টারও বেশি ফ্লাইং আওয়ার। তিনি বোয়িং ৭৩৭ MAX-এ ট্রেনার পাইলটদের মধ্যেও অন্যতম।
- কর্মজীবন: স্পাইসজেটে প্রায় ১০ বছর সিনিয়র কম্যান্ডার ও লাইন ট্রেনিং ক্যাপ্টেন পদে ছিলেন। ২০২২ সালে যোগ দেন ফ্লাইদুবাইয়ে।
এক বছর আগে পডকাস্টে যে মনোযোগ ও উপস্থিত বুদ্ধির কথা বলেছিলেন, বাস্তবে রক্ত ঝরিয়ে সেটাই প্রমাণ করে দিলেন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর।