‘রেজিনগর হবে মডেল!’ ১.৫ বছরে কারখানা থেকে হাসপাতালের আশ্বাস শুভেন্দুর

‘রেজিনগর হবে মডেল!’ ১.৫ বছরে কারখানা থেকে হাসপাতালের আশ্বাস শুভেন্দুর

রেজিনগর: উপনির্বাচনী প্রচারের পারদ চড়তেই রেজিনগরকে ‘মডেল’ বিধানসভা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বড় প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শক্তিপুরের এক বিশাল জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করেন, বিজেপি প্রার্থী বিজয়ী হলে এই এলাকার চিত্র আমূল বদলে ফেলা হবে।

বৃহস্পতিবার রেজিনগরের শক্তিপুরে প্রতাপ সংঘের ময়দানে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের সমর্থনে আয়োজিত প্রচার সভায় উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সিপিএম ও শাসক দল তৃণমূলের পাশাপাশি এদিনের মঞ্চ থেকে তাঁর আক্রমণের মূল নিশানায় ছিলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর।

উন্নয়ন ও শিল্পায়নের ব্লু-প্রিন্ট: রেজিনগরকে স্বনির্ভর ও আধুনিক করে তুলতে একাধিক মেগা প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় এদিনের সভা থেকে:

  • শিল্প ও কর্মসংস্থান: পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে রেজিনগরে শিল্পতালুক গড়ে তোলা হবে। দেড় বছরের মধ্যে কারখানা চালুর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ চলবে, যেখানে ইতিমধ্যেই ৪টি বাণিজ্যিক প্রস্তাব এসে পৌঁছেছে।
  • স্বাস্থ্য পরিকাঠামো: এলাকায় ২০০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল গড়ে তোলার পাশাপাশি স্ক্যান ও এমআরআই (MRI)-এর মতো আধুনিক পরিষেবা চালু করা হবে।
  • দুগ্ধচাষিদের পাশে: এলাকার দুগ্ধচাষিদের সুবিধার্থে ‘আমূল’-এর দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র খোলার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
  • যোগাযোগ ব্যবস্থা: জরাজীর্ণ রাস্তা সংস্কার ও সেতু নির্মাণের মাধ্যমে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার রোডম্যাপ সামনে আনা হয়।

‘জয়ের সার্টিফিকেট আমিই নেব!’ নওদা আসন ধরে রাখতে হুমায়ুন কবীর রেজিনগর ছাড়ায় আগামী ৬ অক্টোবর এখানে উপনির্বাচন হতে চলেছে। জনসভার ভিড় থেকে বিপুল উদ্দীপনা দেখে আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু বলেন, “আগামী ৯ অক্টোবর রেজিনগরে আমাকে দেখতে চান? তা হলে হেলিকপ্টার ভাড়া করে চলে আসব। জয়ের সার্টিফিকেট আমি প্রার্থী শাখারভকে নিতে দেব না, ওই সার্টিফিকেট আমি নিজে নেব।”

রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও হুমায়ুনকে তোপ: রাজনৈতিক সৌজন্য ও শিষ্টাচারের বার্তা দিয়ে হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “রাজনীতির ময়দানে লড়াই, আলোচনা, সমালোচনা থাকবে। জয়-পরাজয় থাকবে। কিন্তু মানুষের মৃত্যু কামনা করার মতো ভাষা আমরা ব্যবহার করি না।” বিরোধীদের এই মানসিকতার চূড়ান্ত বিচার রেজিনগরের ‘গণদেবতা’ তথা ভোটারদের ওপরই ছেড়ে দেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *