‘লোটা-কম্বল গুটিয়ে কংগ্রেসে আসুন!’ ইন্ডি বৈঠকের পর মমতাকে নজিরবিহীন আহ্বান অধীরের

‘লোটা-কম্বল গুটিয়ে কংগ্রেসে আসুন!’ ইন্ডি বৈঠকের পর মমতাকে নজিরবিহীন আহ্বান অধীরের

কলকাতা: রাজ্যের দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ঠিক আগে বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেললেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। ইন্ডি (INDIA) জোটের বৈঠকের পরেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার খোলা আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একদা ‘মমতাবিরোধী’ মুখ হিসেবে পরিচিত অধীরের দাবি— দলের সব সাংসদ ও বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উচিত কংগ্রেসে সামিল হওয়া।

‘ঝঞ্ঝাট ও ব্যাগেজ বাদ দিয়ে কংগ্রেসে চলে আসুন’ সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে অধীর চৌধুরী বলেন, “কংগ্রেস একটি বটগাছ। সেই বটগাছের তলায় যখন আশ্রয় নিয়েই নিয়েছেন, তখন দলের বেঁচে থাকা সমস্ত এমপি-এমএলএ-কে নিয়ে চলে আসুন।” দলের মধ্যকার ‘ঝঞ্ঝাট’ ও ‘ব্যাগেজ’ বাদ দিয়ে বাকি সকলকে নিয়ে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “সব আঁটি-সাঁটি রেখে লাভ নেই, লোটা-কম্বল সব নিয়ে কংগ্রেসে সামিল হয়ে বাংলায় নেতৃত্ব দিন।”

অধীর চৌধুরী স্মরণ করিয়ে দেন যে, প্রয়াত রাজীব গান্ধী থেকে শুরু করে সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাহায্য ও উদারতা দেখিয়েছেন, তার প্রেক্ষিতে তৃণমূল নেত্রীর উচিত কংগ্রেসের মূলস্রোতে ফিরে আসা।

তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া অধীর চৌধুরীর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে দিল্লিতে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংক্ষেপে জানান, “কনস্টিটিউশন ক্লাবে দাঁড়িয়ে আমি আঞ্চলিক বিষয়ে কোনো কথা বলব না।”

অন্যদিকে, তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের স্বার্থে রাজনীতি করেন এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করার পূর্ণ ক্ষমতা তাঁর রয়েছে। সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী যখন নিজেই কথা বলছেন, তখন অধীর চৌধুরীর মতো নেতাদের এভাবে খোঁচা মারার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে।”

উপনির্বাচনের প্রেক্ষাপট ও প্রতীক জট উল্লেখ্য, গত ২৮ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ প্রতীক এবং ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ছাড়াই উপনির্বাচনে লড়াই করতে হচ্ছে মমতার দলকে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে মূল নাম ও প্রতীক ফ্রিজ থাকায় এবার নতুন নাম ও ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। এই জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী আকস্মিকভাবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন এবং সেখানে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের বার্তা দেয় তৃণমূল। সেই পটভূমিতেই অধীর চৌধুরীর এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *