‘আদালতের সঙ্গে চালাকি?’ হাই কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পুলিশ, সৎকারের জলঘোলা মামলায় সিবিআই তদন্ত

‘আদালতের সঙ্গে চালাকি?’ হাই কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পুলিশ, সৎকারের জলঘোলা মামলায় সিবিআই তদন্ত

কলকাতা: অভয়ার সৎকার ঘিরে ওঠা বিতর্কিত চক্রান্তের তদন্তে এবার বড়সড় মোড়। রাজ্য পুলিশের হাত থেকে খড়দহ থানার সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তভার সরাসরি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI)-এর হাতে তুলে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। ফলে অভয়ার সৎকারের আগে ও পরে ঠিক কী ঘটেছিল, সেই সংক্রান্ত সমস্ত অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখন থেকে সিবিআই-ই পরিচালনা করবে।

বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ এই তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছেন। নির্দেশ অনুযায়ী, খড়দহ থানার মামলা নম্বর ৪৩২/২০২৬-কে আরজি কর কাণ্ডের মূল সিবিআই মামলার (RC No. 10/2024) সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।

হাই কোর্টের তীব্র প্রশ্ন ও অসন্তোষ শুনানি চলাকালীন খড়দহ থানার তদন্তপ্রক্রিয়া ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত। আরজি কর কাণ্ডের তদন্তে যখন ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্থা নিয়োজিত রয়েছে, তখন পৃথকভাবে খড়দহ থানায় নতুন FIR করে তদন্ত শুরু করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।

উল্লেখ্য, ঘটনার পর তড়িঘড়ি অভয়ার দেহ সৎকার করার অভিযোগে জলহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং সোমনাথ দে-কে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। কিন্তু পুলিশের এই অতি-সক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিচারপতি শম্পা সরকার প্রশ্ন তোলেন, “আরজি কর মামলায় যে সিবিআই তদন্ত করছে, তা কি খড়দহ থানার পুলিশ জানত না? নাকি আদালতের সঙ্গে চালাকি করার উদ্দেশ্যে এই FIR করা হয়েছে?”

অন্য দিকে, বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ মন্তব্য করেন, “অভিযোগপত্র পাওয়ার সাথে সাথেই যদি পুলিশ এমন তৎপর হয়ে FIR করে, তবে সব ক্ষেত্রে একই নিয়ম মানা উচিত। তাতে হাই কোর্টে মামলার চাপ অনেকটাই কমত।” সিবিআই যেখানে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে এগোচ্ছে, সেখানে রাজ্য পুলিশ কেন সমান্তরাল তদন্ত শুরু করল, তা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে বেঞ্চ।

আদালতের স্পষ্ট বার্তা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, ১০ আগস্ট জমা পড়া অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের দ্বিতীয় পর্যায় হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে হাই কোর্টের সাফ পর্যবেক্ষণ— যে মূল বিষয়ের তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে ন্যাস্ত, সেখানে রাজ্য পুলিশ নতুন করে এক্তিয়ার বিস্তার করতে পারে না। ফলে রাজ্য পুলিশের হাত থেকে তদন্ত কেড়ে নিয়ে তা পুরোপুরি সিবিআই-এর কাছে হস্তান্তরিত করা হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *