উৎসবের মুখেই ভাটপাড়ায় হাড়হিম করা খুন! ডেকে নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্রে প্রৌঢ়কে হত্যা, থানায় আত্মসমর্পণ অভিযুক্তর

উৎসবের মরশুম শুরু হওয়ার ঠিক আগেই উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া পুরসভার জগদ্দলে ঘটল এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ৪৯ বছর বয়সি এক প্রৌঢ়কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল স্থানীয় একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। রোমহর্ষক এই ঘটনার পর মূল অভিযুক্ত নিজেই জগদ্দল থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে।
টোপ দিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নারকীয় তাণ্ডব
নিহত ব্যক্তির নাম রাজেশ তিওয়ারি (৪৯)। তিনি জগদ্দলের তিনসুকিয়া লেনের বাসিন্দা ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় এলাকােরই এক যুবক রাজেশবাবুকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন দুষ্কৃতীর সঙ্গে তাঁর তুমুল বচসা বাঁধে। পরিস্থিতি খারাপ বুঝে পরিবারের লোকজন তাঁকে বুঝিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে আনেন।
তবে অভিযোগ, গভীর রাতে পুরনো পাওনা টাকা মিটিয়ে দেওয়ার নাম করে মহম্মদ সিকন্দর उर्फ কারু নামে এক দুষ্কৃতী রাজেশবাবুকে ফের ফোন করে বাইরে আসতে বলে। টাকার আশায় রাজেশবাবু অন্ধকার রাস্তায় বের হতেই আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুষ্কৃতীর দল তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিছন থেকে তাঁর মাথা ও শরীরের একাধিক জায়গায় উপরিউপরি কোপ মারা হয়।
চিকিৎসকদের মৃত ঘোষণা ও চাঞ্চল্যকর আত্মসমর্পণ
রাজেশবাবুর আর্তনাদ ও চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে দুষ্কৃতীরা চম্পট দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নিহতের দাদা গণেশ তিওয়ারির দাবি, “সিকন্দর ও তার দলবল বেশ কিছুদিন ধরেই রাজেশকে নানারকম হুমকি দিচ্ছিল। পাওনা টাকার ফাঁদ পেতে পরিকল্পিতভাবেই ঠান্ডা মাথায় ওকে হত্যা করা হয়েছে।”
ঘটনার পর এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। তবে পুলিশি তৎপরতা শুরুর আগেই মূল অভিযুক্ত সিকন্দর ওরফে কারু সোজা জগদ্দল থানায় গিয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করে। পুলিশ অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়েছে এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করার জন্য তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।