ঘুমন্ত শিশুদের ওপর পাক বিমান হানা! রক্তে ভিজল আফগানিস্তান, গর্জে উঠল কাবুল

সীমান্ত উত্তেজনার মাঝে আফগানিস্তানের কুনার ও হেলমান্দ প্রদেশে ভয়াবহ বিমান ও ড্রোন হামলা চালাল পাকিস্তান। মধ্যরাতে সাধারণ মানুষের আবাসিক এলাকায় চালানো এই নির্বিচার হামলায় প্রাণ হারিয়েছে শিশুসহ অন্তত ১০ জন নিষ্পাপ আফগান নাগরিক।
ঘুমন্ত শিশুদের ওপর নির্মম আঘাত আফগান সরকারের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, কোনো উস্কানি ছাড়াই পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান থেকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোঁড়া হয়। এতে সাধারণ মানুষের তিনটি বাড়ি মুহূর্তের মধ্যে গুঁড়িয়ে ধূলিসাৎ হয়ে যায়। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকেই উদ্ধার করা হয় নারী ও শিশুদের রক্তাক্ত দেহ। রাষ্ট্রসংঘের আফগানিস্তান মিশন (UNAMA) এই ভয়াবহ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অধিকাংশের বয়সই অত্যন্ত কম এবং এই হামলায় আরও ৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
‘উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে’, গর্জে উঠল আফগানিস্তান এই সামরিক আগ্রাসনকে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত বলে গণ্য করেছে কাবুল। আফগান প্রশাসনের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই ধরনের বর্বরোচিত হামলা আন্তর্জাতিক সীমান্ত নীতি ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য পাকিস্তানকে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার কঠোর হুঙ্কার দিয়েছে তালেবান সরকার।
দোষ ঢাকতে আত্মরক্ষার অছিলা পাকিস্তানের অন্যদিকে, হামলার ঘটনা স্বীকার করলেও নিজেদের অবস্থান সমর্থনের চেষ্টা করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন, আফগান মাটি ব্যবহার করে সীমান্ত পেরিয়ে ড্রোন হামলার ছক কষা হচ্ছিল এবং আত্মরক্ষার খাতিরেই তারা এই ‘সনির্দিষ্ট’ হামলা চালিয়েছে।
তবে পাকিস্তানের এই দাবিকে ধোপে টিকতে দেয়নি আফগান প্রশাসন। কাবুলের মতে, নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকা দিতেই পাকিস্তান বারবার আফগানিস্তানের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এই কাপুরুষোচিত হামলা চালাচ্ছে। সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের এই ধারাবাহিক আগ্রাসনে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে চরম আশঙ্কার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।