একচ্ছত্র আধিপত্যে বড় ধাক্কা! কার্যালয়ে ঢুকে কলার ধরে অনুব্রতকে চরম হুমকি, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

বীরভূমের সিউড়িতে তৃণমূলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডলের দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে নজিরবিহীন তাণ্ডব চালাল তিন যুবক। আসবাবপত্র ভাঙচুর ও পতাকা ছেঁড়ার পাশাপাশি সোজা অনুব্রতের কলার ধরে এবং বুকে লাঠি ঠেকিয়ে চরম হুমকি দেওয়া হয়। ভাইরাল ভিডিওতে আক্রমণকারীদের বলতে শোনা যায়, ‘সিউড়িতে যেন আর না দেখি।’ এই চরম পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে অনুব্রতকে বলতে শোনা যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নেতা নন এবং তিনি তাঁকে কখনো পছন্দ করতেন না। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হতেই অনুব্রতের সিউড়ির বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, অরূপ বিশ্বাস ও মদন মিত্রের মতো প্রভাবশালী নেতারা।
অন্যদিকে, পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত তিন যুবক—আকাশ দেবনাথ, বান্টি বীরবংশী ও ঋষভ গোরকে আটক করলেও পরে কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশের গাড়িতে ওঠার সময় যুবকরা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিলে তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। তবে এই পুরো ঘটনাকে ‘দুর্বল চিত্রনাট্যের সাজানো নাটক’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, অনুব্রতের কার্যালয়ে হামলার ঘটনা কোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে বিশ্বাস করা আসাম্ভব। তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর পক্ষ থেকেই এই হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে, তবে অভিযোগ দায়ের না করা এবং পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা না রুজু হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।