‘বড় চোরও জেলে যাবে!’ নন্দীগ্রামে ভোটের প্রচারে নাম না করে চরম হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

নন্দীগ্রাম: “বড় চোরও জেলে যাবে, এতটুকু বিচলিত হবেন না।” নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনী প্রচারমঞ্চ থেকে নাম না করে রাজনৈতিক বিরোধীদের উদ্দেশ্যে এমনই কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিনের সভা থেকে যেমন দুর্নীতি ইস্যুতে চাঁচাছোলা আক্রমণ শানান, তেমনই নন্দীগ্রামবাসীকে উন্নয়নের একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
‘সব চোর জেলে যাবে’, সুর চড়ালেন শুভেন্দু প্রচারসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “অনেক চেষ্টা করেও ইভিএমে আর শুকনো ঘাস বা জোড়াফুলের প্রতীক দেখতে পাবেন না। যেদিন নন্দীগ্রামের জয়ী সার্টিফিকেট নিয়েছিলাম, সেদিনই বলেছিলাম— সব দল থাকবে, কিন্তু এই দলটার নাম-নিশান থাকবে না। আজ সত্যি তাদের কোনো অস্তিত্ব নেই।” দুর্নীতির অভিযোগে সুর চড়িয়ে তিনি আরও বলেন, “আজহার থেকে সুমিত রায়— সব চোরেরা এখন জেলে। বড় চোর কবে যাবে? খুব দ্রুত বড় চোরও জেলে যাবে, এতটুকু বিচলিত হওয়ার কারণ নেই।”
নন্দীগ্রামের উন্নয়ন ও ১ বছরের লক্ষ্যমাত্রা এদিন নন্দীগ্রামের মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি জানান, “আপনাদের শুভেন্দু আগের মতোই পাশে আছে এবং আগামী দিনেও থাকবে। বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিলেও নন্দীগ্রামের উন্নয়নে এবার তিন গুণ বেশি সাহায্য করা হবে।” পাশাপাশি দলীয় প্রার্থী হাসিরানি রথ যোগ্য বিধায়ক হিসেবে কাজ করবেন বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন। উন্নয়নের গতি নিয়ে তিনি বলেন, “গত ৫ মাসে আমরা বেশ কিছু কাজ করেছি। বাকি কাজের জন্য ৫৫ মাস সময় নেব না; আগামী ১ বছরের মধ্যেই অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন করব।”
বিরোধীদের কঠোর আক্রমণ ও খোলা চ্যালেঞ্জ বিরোধী শিবিরকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি মন্তব্য করেন, “ওই দলটার আর কোনো সাংসদ বা বিধায়ক নেই। প্রার্থী সঞ্চিতাও তো মনোনয়ন তুলে নিয়ে ভোকাট্টা হয়ে গিয়েছেন। কংগ্রেস এখন শুধুই সাইনবোর্ড, আর বামফ্রন্ট বা সিপিআই-এরও কোনো অস্তিত্ব অবশিষ্ট নেই।”
সবশেষে গণনার দিনের খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “ভোটের পর গণনার দিন বুথভিত্তিক গণনাতেই সব স্পষ্ট হয়ে যাবে। দেখতে পাবেন বিরোধীদের কারো জামানতটুকুও আর বাঁচবে না।”