‘প্রার্থনা করবেন বলে উঠেছিলেন…’, ককপিটের সেই ভয়ানক হামলার রোমহর্ষক বিবরণ দিলেন ভারতীয় পাইলট স্মিত!

‘প্রার্থনা করবেন বলে উঠেছিলেন…’, ককপিটের সেই ভয়ানক হামলার রোমহর্ষক বিবরণ দিলেন ভারতীয় পাইলট স্মিত!

ফ্লাইট তখন মাঝ আকাশে। নিস্তরঙ্গ ককপিট। কো-পাইলটের সিট থেকে হঠাৎই উঠে দাঁড়িয়েছিলেন ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি। ভেবেছিলেন প্রার্থনা করবেন, তাই সৌজন্যবশত আর পিছন ফিরে তাকাননি ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর। কিন্তু সেই মুহূর্তেই নেমে আসে মারণ আক্রমণ! আচমকা সজোরে ধাক্কা, আর তারপরেই কোপ! ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে ককপিটের সেই ভয়াবহ ঘটনার রোমহর্ষক বিবরণ দিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন স্মিত। সম্প্রতি ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তাঁকে ফোন করে শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। সেই কথপোকথনেই উঠে আসে সেদিনের সেই লোমহর্ষক বিশদ বিবরণ। স্মিত জানান, কো-পাইলট প্রার্থনা করার জন্য উঠে দাঁড়ালে তিনি আর ফিরে তাকাননি। এর মাত্র কয়েক মিনিট পরেই প্রবল এক ধাক্কা অনুভব করেন তিনি। স্মিতের কথায়, প্রথমে ভেবেছিলেন বিমানে হয়তো কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দিয়েছে। কিন্তু মুহূর্তেই বুঝতে পারেন, তাঁকে কোপ মারা হচ্ছে!

অভিযোগ, শুধু একবার নয়, পরপর বেশ কয়েকবার স্মিতের উপর হামলা চালান হামাম আল-হাম্মামি। কোনো রকমে সিট থেকে উঠে ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করেন রক্তাক্ত স্মিত। কিন্তু ওমানি কো-পাইলট তৎক্ষণাৎ দরজা বন্ধ করে দেন। ব্যথায় আর দাঁড়াতে না পেরে ককপিটের মেঝেতেই লুটিয়ে পড়েন ভারতীয় পাইলট। তবে হাল ছাড়েননি। শরীরের সমস্ত শক্তি জড়ো করে দ্বিতীয় দফায় ফের উঠে দাঁড়ান তিনি। বুঝতে পেরেছিলেন, নিজেকে ও যাত্রীদের বাঁচাতে এটাই তাঁর শেষ সুযোগ।

শেষ পর্যন্ত সর্বশক্তি দিয়ে ককপিটের দরজা খুলে ফেলতেই চমকে যান স্মিত। তিনি দেখেন, ককপিটের ঠিক সামনেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন কয়েকজন যাত্রী। স্মিত দরজা খুলেই তাঁরা ভিতরে ঢুকে পড়েন এবং কো-পাইলটের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়েন। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের সাহসিকতাতেই কাবু করা সম্ভব হয় হামলাকারী হামামকে। পরে তাঁর হাত-পা বেঁধে বাইরে নিয়ে আসা হয়। আহত স্মিতকেও উদ্ধার করেন সেই যাত্রার সাহসী যাত্রীরাই।

গত বুধবার দুবাই থেকে ইজ়রায়েলের তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানটি। ক্রু ও যাত্রী মিলিয়ে বিমানে মোট ১৮০ জন সওয়ারি ছিলেন, যাঁদের অধিকাংশই ইজ়রায়েলি। বিমানটি চালাচ্ছিলেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর এবং তাঁর কো-পাইলট ছিলেন হামাম আল-হাম্মামি। অভিযোগ, মাঝ আকাশে হঠাৎই বিমানটিকে সৌদি আরবের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ওই কো-পাইলট। বিপদ বুঝতে পেরে স্মিত বাধা দিতেই ককপিটে থাকা কুঠার নিয়ে তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন হামাম। তবে শেষ পর্যন্ত ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতা এবং যাত্রীদের সময়োপযোগী পদক্ষেপে বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায় বিমানটি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *