গণধর্ষণ থেকে ভোট হিংসা! পলাতক তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান অবশেষে পুলিশের জালে

গণধর্ষণ থেকে ভোট হিংসা! পলাতক তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান অবশেষে পুলিশের জালে

গণধর্ষণ, জমি দখল, বাড়ি ভাঙচুর এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী হিংসার মতো একের পর এক গুরুতর অপরাধের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক এক তৃণমূল কংগ্রেস পঞ্চায়েত প্রধানকে অবশেষে গ্রেফতার করল পুলিশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিষ্ণুপুর বিধানসভার পানাকুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ভোলা সর্দারকে জেলার বাইরে থেকে পাকড়াও করা হয়েছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তিনি আত্মগোপন করে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার অভিষেক মজুমদার জানান, ভোলা সর্দারের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ রয়েছে। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের স্বার্থে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে, ধৃত ভোলা জেলবন্দি তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। তবে পুলিশের সাফ বার্তা, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নয়; বরং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পুলিশ সূত্রে খবর, বিষ্ণুপুর থানায় ভোলা সর্দারের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে গণধর্ষণের মতো অত্যন্ত গুরুতর মামলা ছাড়াও বেআইনি জমি দখল, এলাকায় তাণ্ডব চালিয়ে ভাঙচুর এবং ২০২১ সালের ভোটের পর রাজনৈতিক হিংসায় প্রত্যক্ষ যোগের অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকার শীর্ষে ছিলেন। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে তিনি লাগাতার নিজের আস্তানা বদল করছিলেন।

অবশেষে গত শুক্রবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জেলা বাইরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার বিশেষ টিম।

৭ দিনের পুলিশ হেফাজত গত শনিবার ধৃত ভোলা সর্দারকে আলিপুর আদালতে পেশ করা হয়। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে আদালত তাঁকে ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এতদিন আইনশৃঙ্খলাকে ফাঁকি দিয়ে তিনি কীভাবে লুকিয়ে ছিলেন এবং এই অপরাধচক্রে আর কারা জড়িত, তা জানতে তাঁকে ম্যারাথন জেরা করছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *