‘এবার ৩৬৫ দিনই ট্যুরিজমের ধামাকা!’—পর্যটন শিল্পকে বিশ্বসেরা করতে বিরাট ঘোষণা মন্ত্রীর

‘এবার ৩৬৫ দিনই ট্যুরিজমের ধামাকা!’—পর্যটন শিল্পকে বিশ্বসেরা করতে বিরাট ঘোষণা মন্ত্রীর

লন্ডনের আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলার মঞ্চে এবার অত্যন্ত উজ্জ্বলভাবে প্রদর্শিত হতে চলেছে বাংলার পর্যটনের রূপ ও বৈচিত্র্য। এই প্রথমবার বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পর্যটন উৎসব ‘লন্ডন ট্রাভেল মার্ট’ (London Travel Mart)-এ অংশ নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্বের ছ’টি বড় দেশের আন্তর্জাতিক পর্যটন উৎসবে পর্যায়ক্রমে বাংলার নিজস্ব প্যাভিলিয়ন বা কাউন্টার বসানো হবে। আগামী ডিসেম্বরে লন্ডন থেকে শুরু হতে চলা এই আন্তর্জাতিক যাত্রার মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বাংলার ট্যুরিজমকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি জলপাইগুড়ির চালসায় জেলার পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠন, ব্যবসায়ী ও ট্যুর অপারেটরদের নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ এই ঐতিহাসিক ঘোষণা করেন।

ব্যবসায়ীদের দাবি ও সরকারের আশ্বস্ত বার্তা

এদিনের বৈঠকে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রতিনিধিরা মন্ত্রীর কাছে একাধিক সমস্যা ও সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—

  • বনদপ্তরের কড়া নিয়মকানুন ও ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা।
  • পরিকাঠামো উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যা।
  • জঙ্গলে প্রবেশের টিকিট কাউন্টারের পরিষেবার মানোন্নয়ন।
  • প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্র সংস্কারের মতো জরুরি দাবি।

মন্ত্রী সমস্ত দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনে ব্যবসায়ীদের লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার অনুরোধ করেন। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন যে, আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রতিটি সমস্যার পর্যালোচনা করে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

‘৩৬৫ ডেজ় ট্যুরিজম’ ও একগুচ্ছ নতুন পরিকল্পনা

রাজ্যকে ভারতের পর্যটন মানচিত্রের একেবারে শীর্ষস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে পর্যটন দপ্তর। মরশুমি ব্যবসার গণ্ডি পেরিয়ে সারা বছর ধরে পর্যটকদের আকর্ষণ করতে ‘৩৬৫ ডেজ় ট্যুরিজম’-এর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

  • বিশেষ উৎসব ও ইভেন্ট: পুরুলিয়ায় পলাশ উৎসব, সান্দাকফু থেকে মেঘমা পর্যন্ত রোমাঞ্চকর ভিন্টেজ কার র‍‍্যালি, দার্জিলিংয়ে বিশেষ চা উৎসব এবং কলকাতায় সাত দিনের আন্তর্জাতিক মানের ফুড ফেস্টিভ্যাল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
  • ডিজিটাল রূপান্তর: বিদেশি পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে রাজ্যের বর্তমান পর্যটন ওয়েবসাইটটিকে সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক মানের করে তোলার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
  • নিরাপত্তা ও বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন: সম্প্রতি সিটংয়ের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার থেকে প্রতিটি হোমস্টের জন্য সরকারি রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
  • যানজট নিয়ন্ত্রণ: দার্জিলিংয়ের মতো জনপ্রিয় পাহাড়ি অঞ্চলে গাড়ির অতিরিক্ত চাপ ও যানজট কমাতে একাধিক নতুন পার্কিং লট তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *