মোবাইলের বদলে ‘লোরার’! কাশ্মীরে জঙ্গিদের যোগাযোগে নতুন কী ফন্দি?

কাশ্মীরে জঙ্গি দমনের লড়াইয়ে এক অভূতপূর্ব ও উদ্বেগের মোড় উন্মোচিত হয়েছে। প্রচলিত মোবাইল টাওয়ার, সিম কার্ড কিংবা ওয়াইফাই ছাড়াই কেবল নীরব রেডিও সংকেতের ওপর ভিত্তি করে গোপন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে কাশ্মীর উপত্যকার সক্রিয় জঙ্গিরা। সম্প্রতি বাডগামে লস্কর-ই-তইবার এক শীর্ষ জঙ্গি কমান্ডার মহম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মুসা ফৌজি নিহত হওয়ার পর তার মরদেহ থেকে উদ্ধার হয়েছে ‘লোরা’ নামক একটি আল্ট্রা-ডিভাইস। এই ‘লং রেঞ্জ, লো পাওয়ার’ প্রযুক্তির সাহায্যে দুর্গম পাহাড়ি ও জঙ্গল ঘেরা এলাকায় প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত এনক্রিপ্টেড বার্তা, জিপিএস তথ্য এবং জরুরি সংকেত আদান-প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে। এই প্রযুক্তি নিজেদের মধ্যে একটি স্বয়ংক্রিয় নেটওয়ার্ক তৈরি করে, যা প্রচলিত ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বাইরে থেকে কাজ চালাচ্ছে।
এই এনক্রিপ্টেড যোগাযোগের জালে আরও চাঞ্চল্যকর মাত্রা যোগ করেছে আন্তর্জাতিক চক্রান্তের অভিযোগ। নিরাপত্তা সংস্থার দাবি অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত লোরা ডিভাইসগুলি কোনো স্থানীয়ভাবে তৈরি যন্ত্র নয়, বরং এগুলি আগে থেকেই বিশেষ কোডে সাজানো। তদন্তকারীদের সন্দেহ, সীমান্তে অবস্থিত পাকিস্তানকে সহায়তার অংশ হিসেবে চিনের তৈরি প্রযুক্তি এই জঙ্গি নেটওয়ার্কে সরবরাহ করা হচ্ছে। দাচিগাম ও পাহেলগাঁওয়ের দুর্গম অঞ্চলে অভিযান চলাকালে এমন অনেক সিমবিহীন ফোন উদ্ধার করা হয়েছে, যা দিয়ে সীমান্তের ওপারে থাকা হ্যান্ডলারদের সঙ্গে অবাধে যোগাযোগ রাখা হতো। এই অফগ্রিড প্রযুক্তির মোকাবিলায় এখন দক্ষিণ কাশ্মীরের জঙ্গলে স্পেকট্রাম স্ক্যানার ও বিশেষ জ্যামার বসিয়ে নতুন কৌশল গ্রহণ করছে ভারতীয় সেনা। প্রযুক্তি কেন্দ্রিক এই লড়াই সীমান্ত সুরক্ষাকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে এনে দাঁড়িয়ে করিয়েছে।