মানবকুল রক্ষায় বড় পদক্ষেপ, নিপা-ইবোলা রুখতে প্রতি জেলায় নয়া শক্তি পাঠাচ্ছে রাজ্য

করোনা, নিপা, কিংবা ইবোলার মতো প্রাণঘাতী রোগের সংক্রমণ শুধু মানুষের থেকে নয়, বরং পশু-পাখি, শাকসবজি ও পরিবেশ থেকেও ব্যাপক হারে ছড়ায়। শুধু হাসপাতালে চিকিৎসার মাধ্যমে এই মারণ রোগশৃঙ্খল ভাঙা সম্ভব নয় বিধায় সংক্রমণ মোকাবিলায় জেলা ভিত্তিক ‘ওয়ান হেলথ কমিটি’ গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। এই নতুন উদ্যোগের অধীনে জেলাশাসক, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক, পশুচিকিৎসক, বন আধিকারিক, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় প্রশাসন একত্রিত হয়ে কাজ করবেন। বিশেষ করে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কিংবা অ্যানটিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি কমাতে মশার বংশবৃদ্ধি, আবহাওয়া ও পারিপার্শ্বিক পরিবর্তনের উপর এই কমিটি কড়া নজরদারি চালাবে।
আন্তর্জাতিক স্তরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্ব প্রাণী স্বাস্থ্য সংস্থার গুরুত্ব দেওয়া ‘ওয়ান হেলথ’ ভাবনাকে মাথায় রেখেই রাজ্য সরকার জেলা পর্যায়ে সুস্বাস্থ্য অর্জনের এই যৌথ লড়াই শুরু করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন জুনোটিক ডিজিজ ও ফলখেকো বাদুড় থেকে ছড়ানো নিপা ভাইরাসের মতো রোগের সম্ভাব্য আক্রমণ ঠেকাত এই মিলিত পদক্ষেপ অত্যন্ত কার্যকর হবে। রোগ উৎপন্ন হওয়ার মূল উৎস পরিবেশ, পশুসম্পদ ও খাদ্য নিরাপত্তা খাতকে একই ছাতার তলায় এনে সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ চালানো হবে। ফলে ভবিষ্যতে যেকোনো মারণ ভাইরাসের দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং সার্বিক জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত করা রাজ্য সরকারের এই কমিটির মূল লক্ষ্য।