হুমায়ুনের দুর্গে ‘অগ্নিপরীক্ষা’ বিজেপির! শুভেন্দুর বার্তায় কি বদলাবে রেজিনগরের সমীকরণ?

কলকাতা/মুর্শিদাবাদ: রাজ্যে মে মাসে সরকার পরিবর্তনের পর এই প্রথম নির্বাচনী মুখোমুখি লড়াই। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—এই দুই হাইভোল্টেজ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনকে ঘিরে চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। বিজেপি সরকার গঠনের পর এটিই প্রথম ভোট হওয়ায়, নতুন শাসন ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া এবং বিরোধী শিবিরের শক্তিবৃদ্ধির রূপরেখা—উভয়ই স্পষ্ট হতে পারে এই ফলাফলে।
রেজিনগরে হুমায়ুনের গড়ে বিজেপির লড়াই ২০২৬ সালের নির্বাচনে রেজিনগর ও নওদা দুই আসনেই জয় পেয়েছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রধান হুমায়ুন কবীর। নওদা ধরে রেখে রেজিনগর ছাড়ায় এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হচ্ছে। এবার AJUP-এর প্রার্থী তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ। অন্যদিকে, এই আসনটিকে ‘মডেল বিধানসভা’ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংখ্যালঘু ভোটারদের কাছে উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বিজেপির তরফে প্রাক্তন জেলা সভাপতি সখারাভ সরকার প্রার্থী হলেও, হুমায়ুন কবীর সাফ জানিয়েছেন—জয়ের পর তিনি সরাসরি অমিত শাহ ও নিতিন নবীনের সঙ্গে দেখা করবেন, যা নিয়ে তাঁর ভবিষ্যৎ চালচিত্র ঘিরে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। এই কেন্দ্রে মমতা-শিবিরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী, কংগ্রেসের মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি এবং সিপিআই(এম)-এর সৈয়দ আসাদ আলি লড়াইয়ে রয়েছেন। প্রতীক বিতর্কও এই কেন্দ্রে শোরগোল ফেলেছে; ‘হুইসেল’-এর বদলে ‘টেবিল’ প্রতীক পাওয়ায় আপত্তি জানিয়েছে AJUP।
নন্দীগ্রামে আবেগের তাস ও নতুন বিরোধী সমীকরণ ২০২৬ সালে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই কেন্দ্র থেকেই জিতেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরবর্তীতে তিনি ভবানীপুর ধরে রাখায় খালি হয় নন্দীগ্রাম আসনটি। এখানে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন হাসিরানি রথ। গত মে মাসে ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরপরই তাঁর ছেলে তথা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল। ফলে হাসিরানি দেবীর প্রার্থিতা নন্দীগ্রামের ভোটপ্রচারে এক ভিন্ন আবেগের মাত্রা যোগ করেছে।
নন্দীগ্রামে বিরোধী শিবিরে বড় চমক দেখা গেছে। মমতা-শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের ঘোষণা দেন। যদিও ২০০৭ সালের পুরনো মামলায় গ্রেফতারির পর অন্তর্বর্তী জামিন পেয়ে মিলন প্রচার চালান। পাশাপাশি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের প্রার্থী মহম্মদ এহতেশামুল হক (‘খাম’ প্রতীক) এবং সিপিআই প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরিও ময়দানে রয়েছেন।
ফলাফলে ৩টি বড় ইঙ্গিত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উপনির্বাচন কেবল দুই বিধায়ক নির্বাচন করার লড়াই নয়। আগামী ৯ অক্টোবরের ফলাফল মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দেবে:
- ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি তাদের জনসমর্থন ধরে রাখতে পারছে কি না।
- বিজেপির মূল বিরোধী মুখ হিসেবে কোন শক্তি আত্মপ্রকাশ করছে।
- তৃণমূলের বিভাজিত ভোটের প্রভাব ঠিক কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে বাক্সে।