স্কুলের ক্লাসরুমেই ‘সংসার’! রাতের অন্ধকারে চাল বিক্রি? প্রধান শিক্ষককে ঘিরে ঘেরাও-বিক্ষোভ
চন্দ্রকোণা: স্কুল থেকে বাড়ির দূরত্ব মাত্র পাঁচ কিলোমিটার। অথচ দিনের পর দিন বাড়ির বদলে স্কুলের ক্লাসরুমকেই নিজের ‘সংসার’ বানিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠল এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে! শুধু বসবাসই নয়, রাতের অন্ধকারে মিড-ডে মিলের চাল বিক্রি এবং নানা অসাধু কারবারের গুরুতর অভিযোগ ঘিরে রবিবার রাতে চন্দ্রকোণার ঝাঁকরা হাইস্কুলে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। প্রধান শিক্ষককে ঘরে আটকে রেখে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।
কী ঘটেছে ঝাঁকরা হাইস্কুলে? চন্দ্রকোণা-২ ব্লকের বান্দিপুর ১ পঞ্চায়েতের ঝাঁকরা হাইস্কুলের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের নাম সুকুমার মণ্ডল, যার বাড়ি কাছেই খাঁপুর গ্রামে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অন্য সব শিক্ষক-শিক্ষিকা ছুটি শেষে বাড়ি ফিরলেও সুকুমারবাবু বিগত বহু বছর ধরে স্কুলের দোতলার একটি ক্লাসরুম দখল করে রাত কাটাচ্ছেন। ঘরের ভিতর খাট, বিছানা, রান্নার বাসনপত্র সাজিয়ে রীতিমতো থাকার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। এমনকি স্কুলের গোপন নথিও সেখানে রাখা থাকে।
গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ: গ্রামবাসী সন্দীপ ঘোষ ও শৌভিক মাইতিদের দাবি, “স্কুলঘর দখল করে থাকা ছাড়াও সন্ধ্যার পর কিছু অসাধু লোক ও মহিলাদের আসা-যাওয়া লেগেই থাকে। প্রধান শিক্ষক রাতের অন্ধকারে মিড-ডে মিলের চাল বিক্রি করে দিচ্ছেন। আমরা চাই দ্রুত স্কুল ঘর দখলমুক্ত হোক এবং ওঁর সমস্ত দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক।”
কী বলছেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক? স্কুলে থাকার কথা নিজের মুখে স্বীকার করে নিলেও বাকি সমস্ত অভিযোগ একবাক্যে উড়িয়ে দিয়েছেন সুকুমার মণ্ডল। তাঁর পাল্টা দাবি, “আমি নিজের সুখের জন্য স্কুলে থাকি না, স্কুলের নিরাপত্তার স্বার্থেই থাকি। চুরির হাত থেকে স্কুলের সম্পত্তি রক্ষা করতে এবং কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে দিনরাত পরিশ্রম করি। তবে অভিভাবকরা না চাইলে আমি আর থাকব না।”
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ: রবিবার রাতে খবর পেয়ে চন্দ্রকোণা থানার পুলিশ গিয়ে বিক্ষোভকারীদের হাত থেকে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠায়। বর্তমানে স্কুলে কোনও পরিচালন কমিটি না থাকায় প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন চন্দ্রকোণা-২ ব্লকের স্কুল পরিদর্শক সৌমেন মণ্ডল। তিনি স্পষ্ট জানান, “হস্টেল ছাড়া এভাবে স্কুলের ক্লাসরুমে থাকার কোনও নিয়ম নেই। পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”