সুদূর রাশিয়ায় পৌঁছে যাচ্ছে খরুণের খাঁড়া, পুজোয় দিন-রাত এক কামারশালায়!

আগুনের লেলিহান শিখা, লাল টকটকে লোহা আর হাতুড়ির ঘায়ে দুর্গাপুজোর আগে এখন সরগরম রামপুরহাটের খরুণ গ্রাম। বংশপরম্পরায় তৈরি হওয়া এখানকার ঐতিহ্যবাহী খাঁড়ার চাহিদা পুজো এলেই তুঙ্গে ওঠে। বর্তমানে ফোনে নকশা ও মাপ দেখে অনলাইন অর্ডার নিয়ে মাত্র চার-পাঁচ দিনের মধ্যে কারিগররা ক্যুরিয়ারের মাধ্যমে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করছেন। কলকাতা, শিলিগুড়ি, ধানবাদ, আসাম, ওড়িশা ছাড়িয়ে এক সাধুর মাধ্যমে এখানকার তৈরি খাঁড়া পৌঁছে গেছে রাশিয়ায়। ১৬ হাজার টাকা থেকে শুরু হওয়া এসব খাঁড়ার ওজন তিন থেকে পাঁচ কেজির মধ্যে হয় এবং দাম মূলত নির্ভর করে এতে থাকা কারুকাজ ও জটিল নকশার ওপর।
কারিগর বসন্ত কর্মকার জানান, ৪৬ বছর ধরে দাদা ও তিনি মিলে খাঁড়া তৈরি করছেন এবং চলতি বছর ইতিমধ্যেই তাঁদের কাছে ১৫টির বেশি অর্ডার এসেছে। খাঁড়ার কোনো ছোট সাইজ করা হয় না, তবে ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো নকশা ফুটিয়ে তুলতে সিদ্ধহস্ত এই কারিগররা। পুজোর দিন ঘনিয়ে আসায় নাওয়াখাওয়া ভুলে প্রদীপ জ্বালানোর মতো পরিশ্রম করছেন খরুণের শিল্পীরা। পূর্বপুরুষের প্রাচীন ঐতিহ্য এবং জীবিকার হাত ধরে তৈরি এই খাঁড়া সীমানা ছাড়িয়ে দেশ-বিদেশে সমাদৃত হওয়ায় চরম গর্ব অনুভব করছেন খরুণ গ্রামের এই কামারশালার কারিগররা।