সামান্য পরিশ্রমে হাঁপিয়ে উঠছেন? হৃদযন্ত্রের এই মারাত্মক বিপদ সংকেত এড়িয়ে চলবেন না!

সামান্য হাঁটাচলাতেই কি ঘন ঘন শ্বাসকষ্ট হচ্ছে? কিংবা সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় বুকে অহেতুক চাপ অনুভব করছেন? দৈনন্দিন জীবনের এমন তীব্র ক্লান্তি বা অস্বস্তিকে অধিকাংশ মানুষই পেটের গ্যাস, সাধারণ দুর্বলতা কিংবা বয়সের প্রভাব ভেবে এড়িয়ে যান। তবে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হওয়া এই উপসর্গগুলো আসলে হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী ধমনীতে তৈরি হওয়া বড় ধরনের ব্লকেজের স্পষ্ট পূর্বলক্ষণ হতে পারে। সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে এই অবহেলাই ডেকে আনতে পারে প্রাণঘাতী হার্ট অ্যাটাক।
হৃদপিণ্ডের পেশিগুলোকে সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন রক্ত ও অক্সিজেনের সরবরাহ অপরিহার্য। তবে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ক্রমবর্ধমান দূষণ এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপের ফলে করোনরি ধমনীর ভেতরের দেওয়ালে ধীরে ধীরে কোলেস্টেরল ও ফ্যাট জমতে থাকে। ফলে রক্তের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হয়ে পড়ে এবং হৃৎপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
পাটনার ফোর্ড হাসপাতালের ডিরেক্টর ডা. বি.বি. ভারতী জানান, হৃদযন্ত্রের ‘বাম প্রধান করোনরি ধমনী’ (Left Main Coronary Artery)-তে কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখা দিলে তা সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক। কারণ এই ধমনীটি হৃদপিণ্ডের একটি বড় অংশে রক্ত পৌঁছে দেয়। এখানে ব্লকেজ তৈরি হলে সামান্য শারীরিক পরিশ্রমেই তীব্র বুক ব্যথা, বুকে ভারী ভাব কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দেয়। তবে সবার ক্ষেত্রে উপসর্গ এক নাও হতে পারে; অনেকের ক্ষেত্রে বুক ব্যথার বদলে চরম শারীরিক অবসাদ ও অস্থিরতা প্রকাশ পায়।
চিকিৎসকদের স্পষ্ট বার্তা—এমন লক্ষণ বারবার দেখা দিলে এবং কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার পর তা সাময়িকভাবে কমে গেলেও অবহেলা করা একদম উচিত নয়। প্রাথমিক অবস্থাতেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও এনজিওগ্রাফির মাধ্যমে ধমনীর ব্লকেজ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব, যা সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করে বড় ধরনের জীবনহানির ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে।