ভিটে হারানোর অভিশাপ শেষ! বউবাজারে ফিরল বাস্তুহারাদের নতুন ঠিকানা, শুরু চাবি হস্তান্তর

ভিটে হারানোর অভিশাপ শেষ! বউবাজারে ফিরল বাস্তুহারাদের নতুন ঠিকানা, শুরু চাবি হস্তান্তর

কলকাতা: ২০১৯ সালের অগাস্টের সেই ভয়াবহ স্মৃতি, চোখের সামনে ভিটেমাটি ধসে পড়ার আতঙ্ক আর এক কাপড়ে ঘর ছাড়ার নির্মম যন্ত্রণা—দীর্ঘ ৭ বছরের এই লড়াই কাটিয়ে অবশেষে নিজেদের পৈতৃক ভিটায় নতুন পাকা ছাদ ফিরে পাচ্ছেন বউবাজারের বাসিন্দারা। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পের টানেল খোঁড়ার জেরে এক লহমায় গৃহহীন হয়ে পড়া পরিবারগুলির মুখে এবার দুর্গোৎসবের আগেই ফুটল স্বস্তির হাসি।

বউবাজারের দুর্গা পিতুরি লেন, স্যাঁক্রা পাড়া লেন, মদন দত্ত লেন কিংবা হিদারাম ব্যানার্জি স্ট্রিট—এই নামগুলো উঠলেই বিগত কয়েক বছর ধরে ভেসে উঠত ঐতিহ্যবাহী বাড়িগুলোর গায়ে চওড়া ফাটল আর রাতের অন্ধকারে সর্বস্ব হারানো মানুষের হাহাকার। হোটেল এবং কেএমআরসিএল (KMRCL)-এর দেওয়া সাময়িক আস্তানায় বছরের পর বছর কাটাতে বাধ্য হয়েছিলেন বউবাজারের আদি বাসিন্দারা। কেউ বেলেঘাটায় তো কেউ শহরের অন্য প্রান্তে দিন গুজরান করছিলেন।

রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও আন্দোলন-বিক্ষোভের পর মেট্রো কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাতেই নতুন মজবুত বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার দায়িত্ব নেয়। সেই প্রতিশ্রুতি মেনে প্রথম দফায় ৭টি পুনর্নির্মিত ভবনের চাবি হস্তান্তর করা হচ্ছে। এতে ১৭ থেকে ১৮টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং ৫-৬টি ধসে যাওয়া দোকানের মালিক নিজেদের পুরনো ঠিকানায় নতুনভাবে ব্যবসা ও সংসার শুরু করার সুযোগ পাচ্ছেন।

স্থানীয় কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে জানান, বউবাজারে মোট ২৭টি ভবন পুনর্নির্মাণের কাজ পূর্ণ উদ্যমে চলছে। প্রথম ধাপে বেশ কিছু পরিবার ঘরের চাবি পেলেও এখনও প্রায় ২৫টি পরিবার অস্থায়ী আবাসন বা ভাড়াবাড়িতে রয়েছেন। তবে আগামী বছরের দুর্গাপুজোর আগেই বাকি সমস্ত ভিটেহারা পরিবারকে বউবাজারের বুকে নতুন বাড়িতে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়ের উপস্থিতিতে এই চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। ২০২৫ সালে পুরসভা ও মেট্রো কর্তৃপক্ষের বৈঠকের পর যে আশার আলো দেখা গিয়েছিল, ২০২৬-এর দুর্গাপুজোর মুখে তা বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করায় নতুন করে প্রাণ ফিরে পেল বউবাজার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *