চুরি করেও মিলছে না ‘এক্সেস’! আইফোনের পাসওয়ার্ড চেয়ে সোজা মালিককে মেসেজ চোরের

চুরি করেও মিলছে না ‘এক্সেস’! আইফোনের পাসওয়ার্ড চেয়ে সোজা মালিককে মেসেজ চোরের

দামি আইফোন চুরি গেলে তা ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়ে দেওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু চোর যদি চুরি করার এক মাস পর নিজেই মালিককে মেসেজ পাঠিয়ে ফোন আনলক করার পাসওয়ার্ড দাবি করে, তবে চমকে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকে না! সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে ঘটেছে এমনই এক আজব ঘটনা, যা শুনে নেটপাড়ায় হাসির রোল উঠলেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা।

কীভাবে ঘটেছিল চুরির ঘটনা? ঘটনাটি দেরাদুনের ক্লেমেন্ট টাউন সংলগ্ন সানশাইন এনক্লেভ এলাকার। ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর সকালে ঘরের মধ্যে নিজের আইফোনটি ব্যবহার করছিলেন সক্ষম ধ্যানী। সকাল পৌনে ৯টা নাগাদ হঠাৎ দেখা যায় ফোনটি ঘর থেকে উধাও। সন্দেহ হওয়ায় বাড়ির সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখেন সক্ষমের বোন কৌশিকী ধ্যানী। ফুটেজে দেখা যায়, খোলা দরজার সুযোগ নিয়ে দুজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি বাড়ি থেকে চম্পট দিচ্ছে। ঘটনার পরদিন, অর্থাৎ ১৩ সেপ্টেম্বরই স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে পরিবার।

এক মাস পর নাটকীয় মোড়: চোরের পাসওয়ার্ড দাবি! ফোন হারানোর শোকে যখন পরিবারটি আশা ছেড়ে দিয়েছিল, ঠিক তখনই এক মাস পর আসে আসল চমক। সক্ষমের মোবাইলে ওপাশ থেকে মেসেজ পাঠানো শুরু করে খোদ চোর! আইফোনের শক্তপোক্ত সিকিউরিটি ফিচারের কারণে ফোনটি কোনোভাবেই আনলক বা ব্যবহার করতে পারছিল না সে। আর তাই চোরের চরম দুঃসাহস—সরাসরি মেসেজ পাঠিয়ে আবদার করে বসে, আইফোনের পাসওয়ার্ড বা পিন কোডটি যেন তাকে দিয়ে দেওয়া হয়!

পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ ও নেটপাড়ায় ক্ষোভ চোরের পাসওয়ার্ড চাওয়া মেসেজের স্ক্রিনশট, সিসিটিভি ফুটেজ ও সন্দেহভাজনদের ছবি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের হাতে তুলে দেয় ভুক্তভোগী পরিবার। কিন্তু অভিযোগ, উপযুক্ত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কোনো কার্যকর ভূমিকা নেয়নি। কৌশিকী ধ্যানী জানান, রাত ১০টার দিকে চোরের সেই মেসেজের স্ক্রিনশট নিয়ে তিনি থানায় গেলেও কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকরা তাকে পরদিন সকালে আসতে বলে ফিরিয়ে দেন।

পুলিশের এমন নিষ্ক্রিয়তায় চরম ক্ষুব্ধ হয়ে শেষ পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করে পুরো ঘটনাটি সামনে আনেন কৌশিকী, যা নেটদুনিয়ায় মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়।

প্রশাসনের পদক্ষেপ সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হতেই নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। দেরাদুনের সিটি পুলিশ সুপার শেখর সুয়াল জানিয়েছেন, অভিযোগ মেলার দিন থেকেই ফোনটি ডেটাবেসে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসারকে দ্রুত সিসিটিভি ফুটেজ এবং যে নম্বর থেকে মেসেজ পাঠানো হয়েছিল তা খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপাতত নিজেদের প্রিয় আইফোনটি ফিরে পাওয়ার প্রহর গুনছে দেরাদুনের ধ্যানী পরিবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *