হাইকোর্টের ডেডলাইন উড়িয়ে ফের অধরা খুনে অভিযুক্ত বিডিও! নেপথ্যে কোন প্রভাবশালীর হাত?
কলকাতা হাইকোর্টের বেঁধে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা পার। তবুও পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন না খুনের মামলায় অভিযুক্ত প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মন। বুধবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটে গড়িয়ে গেলেও বিধাননগর দক্ষিণ থানায় তাঁর কোনও দেখা মেলেনি। শীর্ষ আদালত ও হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করে তাঁর এই চরম ঔদ্ধত্য দেখে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে— কার মদতে তিনি আইনকে এভাবে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছেন?
এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আইনজীবী মহল। হাইকোর্ট অভিযুক্তের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কড়া নির্দেশ দিলেও, পুলিশ কেন এখনও পদক্ষেপ করছে না, তা নিয়ে বিস্ময় তৈরি হয়েছে। বর্ষীয়ান আইনজীবী পার্থসারথী সেনগুপ্তের মতে, অন্যান্য খুনের মামলার মতো কড়া পদক্ষেপ না করে, এই অভিযুক্তকে বারবার আত্মসমর্পণের ‘বিশেষ সুযোগ’ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে প্রশাসন তাঁকে ধরতে চরম ব্যর্থ এবং পুলিশ ও আদালত তাঁর প্রতি অহেতুক সদয় আচরণ করছে। এর ফলে জনমানসে এমন বার্তা যাচ্ছে যে, অভিযুক্ত হয়তো আইনেরও ঊর্ধ্বে।
সবচেয়ে বড় রহস্য হলো, অভিযুক্ত যদি পুলিশের খাতায় পলাতকই হন, তবে তিনি তাঁর আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন কী করে? আদালতে আইনজীবীরা তাঁর হয়ে সওয়াল করছেন, অথচ পুলিশ তাঁর হদিশ পাচ্ছে না! কলকাতা হাইকোর্টের তরুণ আইনজীবী সৌমজিৎ দাসমহাপাত্র জানান, নতুন ফৌজদারি আইন অনুযায়ী কোনও অভিযুক্ত পলাতক থাকলে ১২০ দিনের মধ্যে তাঁর সম্পত্তি ক্রোক করার কথা। কিন্তু প্রায় এক বছর হতে চললেও এই নিয়ম কেন কার্যকর হলো না এবং আদালতই বা তাঁকে কেন এত সময় দিচ্ছে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কার অদৃশ্য ‘হাত’ প্রশান্ত বর্মনকে রক্ষা করছে, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা চলছে সর্বত্র।