‘বাবরি মসজিদ নয়, শিল্প চাই!’ রেজিনগরে বিপুল লিডের পর বিস্ফোরক শমীক ভট্টাচার্য

‘বাবরি মসজিদ নয়, শিল্প চাই!’ রেজিনগরে বিপুল লিডের পর বিস্ফোরক শমীক ভট্টাচার্য

রাজ্যের দুই হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনের ভোটগণনাকে ঘিরে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক উত্তাপ। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাথমিক ফলাফলে তৈরি হয়েছে এক অভূতপূর্ব চমক। ভোটগণনার পঞ্চম রাউন্ড শেষে বিজেপির প্রার্থী শাখারভ সরকার তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর থেকে ২৩ হাজারেরও বেশি ভোটের বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।

গণনার বর্তমান ট্রেন্ড অনুযায়ী, এই কেন্দ্রে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হুমায়ুন কবীরের দল ‘এজেউইপি’ (AJUP)। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে যথাক্রমে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে, পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থানে অবস্থান করছে সিপিএম এবং গণতান্ত্রিক তৃণমূল।

“বাবরি মসজিদ চাই না, শিল্প চাই”— শমীক ভট্টাচার্যের সুর চড়া মন্তব্য রেজিনগরের এই গতিপথ বদলানো ফলাফল সামনে আসতেই রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য অত্যন্ত জোরালো বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “রেজিনগরে আমরা বাবরি মসজিদ চাই না; আমরা শিল্প ও উন্নয়ন চাই। ‘সংখ্যালঘুরা বিজেপির সঙ্গে নেই’— এতদিন ধরে চলা এই ভুল ধারণা এবার চুরমার হয়ে গেছে।”

শমীক ভট্টাচার্য আরও যোগ করেন, সংখ্যালঘু মানুষও বুঝতে পেরেছেন যে আগামী দিনে কেন্দ্র বা রাজ্য— কোনো সরকারেরই পরিবর্তন হচ্ছে না। তাই পছন্দ হোক বা না হোক, বিজেপির সঙ্গে নিয়েই পথ চলতে হবে। গত কয়েক মাসে বিজেপি সরকারের জনহিতকর কাজ দেখে সংখ্যালঘু ভাই-বোনেরা বুঝেছেন যে প্রকৃত উন্নয়ন চাইলে বিজেপির বিকল্প নেই।

প্রার্থী ও শীর্ষ নেতৃত্বের বার্তা জনগণের এই ব্যাপক আস্থায় গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। তিনি জানান, ভোটাররা বিরোধী দলগুলোর নেতিবাচক রাজনীতি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে উন্নয়নের পক্ষেই রায় দিচ্ছেন।

অন্যদিকে, রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম— দুই কেন্দ্রেই বিজেপি প্রার্থীদের অগ্রগমন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, দুই আসনেই রাষ্ট্রবাদী শক্তির জয় সুনিশ্চিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগরে গেরুয়া শিবিরের এই বিপুল শক্তিবৃদ্ধি রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *