‘আর লড়তে পারছি না, এবার দুবাইয়ে গিয়ে শান্তি চাই!’ রেজিনগরে হারের পর দেশ ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

‘আর লড়তে পারছি না, এবার দুবাইয়ে গিয়ে শান্তি চাই!’ রেজিনগরে হারের পর দেশ ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

কলকাতা: রেজিনগরের উপনির্বাচনে ভরাডুবির পর রাজনীতি এবং দেশ ছাড়ার এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ক্রমাগত রাজনৈতিক সংঘাত ও প্রশাসনিক চাপের মুখে তিনি মানসিক ভাবে ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত বলে দাবি করেছেন। জীবনের শেষ দিনগুলো শান্তিতে কাটাতে গোল্ডেন ভিসা নিয়ে স্থায়ী ভাবে দুবাই পাড়ি দিতে চান এই প্রবীণ রাজনীতিক।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হুমায়ুনের দল, যেখানে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। অথচ গত বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনেই ৫৮ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। এ বার নিজের ছেলে গোলাম নবি আজ়াদকে প্রার্থী করলেও ভোটের পর তাঁকেই ‘গদ্দার’ বলে তোপ দাগেন হুমায়ুন। ফলপ্রকাশের দিনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রাক্তন এই রাজ্য মন্ত্রী জানান, বর্তমান রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একা লড়াই করার মতো শক্তি বা মনোবল আর তাঁর অবশিষ্ট নেই।

প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে হুমায়ুনের অভিযোগ, একটি মাত্র আসন দখলের উদ্দেশ্যে শাসকদল গত দু’মাসে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করেছে। মিথ্যা মামলা দেওয়া, মারধর ও পুরনো কেস টেনে এনে তাঁর দলের অন্তত ৬৪ জন নেতা-কর্মীকে পুলিশ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আগামী ২৯ তারিখ ৬৫ বছরে পা দিতে চলা এই রাজনীতিক আক্ষেপের সুরে বলেন, “ছোটবেলা থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে এসেছি। কিন্তু এখন আমি শারীরিক ও মানসিক ভাবে বড্ড ক্লান্ত। অন্যায়কারী আর জুলুমবাজদের সঙ্গে সংঘাত চালানো আর সম্ভব নয়। দুবাইয়ে গিয়ে সমুদ্রের হাওয়া খেয়ে শান্তিতে বাঁচতে চাই এবং সেখানেই যেন আমার কবর হয়, সেই ব্যবস্থাই করে যাব।”

তবে দেশ ছাড়ার আগে নিজের কাঁধে নেওয়া একটি আসামাপ্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে চান হুমায়ুন। মুর্শিদাবাদে বিতর্কিত মসজিদ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করাই এখন তাঁর প্রাথমিক লক্ষ্য। মসজিদ নির্মাণ ঘিরে ওঠা বিপুল অঙ্কের আর্থিক অনিয়মের গুজব উড়িয়ে দিয়ে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের থেকে পাওয়া অনুদান ১০ কোটি টাকার কম। ইতিমধ্যেই প্রায় দু’কোটি টাকার বেশি খরচে জমি ও নকশার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই দায়িত্ব শেষ করেই চিরতরে রাজনীতি ও দেশ ছাড়বেন বলে জানান তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *