স্বাস্থ্য সাথী ও আয়ুষ্মান কার্ড ফেরত দিতে হবে! সরকারি কর্মীদের জন্য কঠোর নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন

স্বাস্থ্য সাথী ও আয়ুষ্মান কার্ড ফেরত দিতে হবে! সরকারি কর্মীদের জন্য কঠোর নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মী এবং পেনশনভোগীদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। যে সমস্ত সরকারি কর্মী ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের ‘পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্প’ (WBHS)-এর সুবিধা ভোগ করছেন, তাঁদের যদি স্বাস্থ্য সাথী বা আয়ুষ্মান ভারত কার্ড থেকে থাকে, তবে তা অবিলম্বে ফেরত বা জমা দিতে হবে। এই নির্দেশিকা পালনের জন্য আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট এই সময়ের মধ্যে নির্দেশ না মানলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর চিকিৎসার সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এমনকি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

৩১ অক্টোবরের মধ্যে কার্ড জমা দেওয়ার নির্দেশ নবান্নের

গত শুক্রবার রাজ্য সরকারের অর্থ দপ্তরের মেডিক্যাল সেল থেকে এই নির্দেশিকাটি জারি করা হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, সরকারি কর্মী, পেনশনভোগী এবং তাঁদের উপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যরা শুধুমাত্র ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিম’ (WBHS)-এরই সুবিধা পাওয়ার অধিকারী।

সরকারের গোচরে এসেছে যে, এই স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া সত্ত্বেও অনেক সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীর কাছে অতিরিক্তভাবে স্বাস্থ্য সাথী এবং আয়ুষ্মান ভারত কার্ড রয়েছে। এমনকি অল ইন্ডিয়া সার্ভিসের কর্মী ও আধিকারিকদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যদের কাছেও এই কার্ডগুলি পাওয়া গিয়েছে।

নবান্নের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, যাঁদের কাছে এই কার্ডগুলি রয়েছে, তাঁদের অবিলম্বে তা নির্দিষ্ট দপ্তরে সমর্পণ করতে হবে। এর পাশাপাশি কার্ড জমা দেওয়ার রসিদ বা প্রমাণপত্র এবং একটি নির্দিষ্ট ঘোষণাপত্রও জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কর্মরত সরকারি কর্মীদের তাঁদের নিজ নিজ দপ্তরের প্রধানের কাছে এই সমস্ত নথি জমা দিতে হবে। অন্যদিকে, পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্পের ফর্ম যেখানে জমা পড়ে, সেখানেই প্রয়োজনীয় নথিগুলি জমা দিতে হবে।

নবান্ন সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত ডেডলাইনের মধ্যে এই নির্দেশিকা অমান্য করলে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্পের অধীনে চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত সুযোগ-সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে। এছাড়া সরকারি কর্মীরা এই নিয়ম না মানলে তাঁদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *